তোমরা আমাদের গর্ব ও অহংকার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব ও অহংকার। সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোন দূর্যোগকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভুমিকা প্রশংসার দাবিদার।

অতীতের ন্যায় এবারও করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দূর্যোগ মোকাবেলায় সারাদেশে জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আমাদের সেনা সদস্যরা। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বউদ্যোগে যে যেখানে পারছেন সমাজসেবা করে যাচ্ছেন।

করোনা সমস্যার কারণে সারাদেশে লকডাউন থাকায় অনেক কৃষক পরিবহন সমস্যায় তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে পারছেনা। ফলে গুনতে হচ্ছে লোকসান। এ অবস্থায় চাষিদের লোকসান ঠেকাতে সেনাপ্রধানের নির্দেশে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে সবজি কিনছেন যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া এলাকায় কৃষকদের কাছ থেকে পাঁচ মণ সবজি কিনেছে সেনাবাহিনী। সেনানিবাসের সৈনিকদের খাবারের জন্য এসব সবজি কেনা হয়। ন্যায্য দামে মাঠ থেকে সবজি বিক্রি করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। কৃষকদের বক্তব্য হলো, করোনার কারণে আমরা সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। বাজারে লোকসমাগম কম। বাইরের বাজারেও সবজি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেনাসদস্যরা মাঠে এসে ন্যায্য দামে সবজি কিনেছেন। এতে একদিকে আমাদের পরিবহন খরচ বেঁচে গেল অন্যদিকে ক্ষ’তির মুখ থেকে বাঁচলাম।

নিচের ছবিতে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনা সদস্যরা নিজেদের রেশন সামগ্রী মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌছে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর পাশাপাশি নিজেদের রেশনের চাল, ডাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীর একটি অংশ অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। করোনার কারণে চরম বিপাকে পড়া কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে সেনা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি ছুটছেন তারা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে যাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকার কথা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। খাদ্য সহায়তার সঙ্গে কক্সবাজারের অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেনা চিকিৎসক, নার্সসহ সেনা সদস্যরা।

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম।

দেশের দীর্ঘতম কবরে শায়িত জিন্নাত আলী

দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম কবরে আজ শায়িত হলেন এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে লম্বা (৮ ফুট ২.৮২ ইঞ্চি) মানুষ কক্সবাজার জেলার রামুর “জিন্নাত আলী (২৮)। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি গতকাল ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ছবিতে জিন্নাত আলীর কবরটিই সম্ভবত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা কবর।

জনাব জিন্নাত আলী ১৯৯৬ সালে রামু উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আমির হামজা এবং মাতা শাহাম্পুরা বেগম। তিনিই একজন বাংলাদেশী নাগরিক, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা মানুষ এবং তুরষ্কের সুলতান কোশেন এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় লম্বা ব্যক্তি।
“ছাত্র-ছাত্রী ডট কম” পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

নিচের ছবিতে জিন্নাত আলী

কোন পাঁচ শ্রেণির লোক সবচেয়ে বেশী করোনা ঝুঁকিতে?

ডেক্স আর্টিকেলঃ জনসন হপকিংস ইউনিভার্সিটির সংগৃহিত তথ্যমতে আজকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০৯। মারা গেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭০৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ৪৫৩জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫১ হাজারের বেশি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তথ্যমতে আজকে বিকাল পর্যন্ত করোনায় বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮ শত ৩৮ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৫৮ জন । মারা গেছে ৭৫ জন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের “সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)” এ পর্যন্ত বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। তাদের প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফলে পাঁচটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে বিষয়গুলো মানুষকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ওই গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিরর একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। এই পাঁচটি কারণ হলো-

১. বয়সঃ গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ বছরের বেশি বয়স্কদের করোনাভাইয়াসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার বেশি।বয়স্কদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় হার্ট, ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতির হাত থেকে তারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে রক্ষা করতে পারছে না। চীনের উহানে গবেষকরা সেখানকার দুটি হাসপাতালের করোনাভাইরাস আক্রান্ত ১৯১ জনের মধ্যে অধ্যায়ন করে বয়সভেদে মৃত্যুর একটি সম্পর্ক দেখেছেন। ওহানে দেখা গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করা অধিকাংশই বয়স্ক।

২. লিঙ্গঃ সিডিসির গবেষণা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষের মৃত্যু হচ্ছে বেশি। যদিও এর কারণ এখনো জানতে পারেননি গবেষকরা। ইতালিতে আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ হলেও মৃতদের মধ্যে পুরুষের শতাংশ ৬৮। গ্রিসে জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ পুরুষ হলেও করোনায় মৃতদের ৭২ শতাংশ পুরুষ।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীরা বেশিরভাগ সময় পুরুষের চেয়ে ঘরে সময় পার করেন। এমনকি করোনাভাইরাসের বিষয়টিও নারীরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। কিন্তু পুরুষরা সেভাবে বিবেচনা না করে এখনো বাইরে বের হচ্ছেন। তাছাড়া পারিবারিক প্রয়োজনেই মহিলাদের তুলনায় পুরুষকে বাইরে যেতে হয় বেশি। ফলে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর হারের দিক থেকেও পুরুষের সংখ্যাটা বেশি হচ্ছে।

৩. আগে থেকে রোগাক্রান্তঃ যেসব মানুষ আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে আছেন; বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসে সমস্যা, হজমের সমস্যায় ভুগছেন- তাদের মৃত্যু হার বেশি। নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে, উহান শহরে প্রথম এক হাজার জন আক্রান্ত হওয়ার পর যারা মারা গেছেন- তাদের বেশিরভাগেরই ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হার্টে সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এসব জটিল রোগের সাথে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে তারা সহজেই দূর্বল হয়ে গেছেন।

৪. ওজনঃ শারীরিকভাবে বেশি ওজনের মানুষদের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে। ফ্রান্সের গবেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এত বেশি মানুষ মারা যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাড়তি ওজন। মোটা মানুষজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার কথাও বলেছেন গবেষকরা।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। সে ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কেবল আক্রান্ত কোনো মানুষকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে টেনে নিয়ে আসতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, করোনা আক্রান্ত হলে তাদের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে গুরুতরভাবে। এ ধরনের মানুষকে লাইফ সাপোর্টে পর্যন্ত নিতে হচ্ছে। পরে বেশি সংখ্যক এ ধরনের মানুষ মারা যাচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ মিরর ও সময়ের কন্ঠস্বর

করোনা আক্রান্তের চিহ্ন এখন পায়েও

সারা বিশ্বে এখন করোনা আতঙ্ক। পৃথিবী জুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে শুকনো কাশি ও জ্বর লক্ষ্য করা যায়। পরে এই মারণ ভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে।

করোনা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য জানাচ্ছেন গবেষকরা। এমনকি গবেষকরা জানান, কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়া ছাড়াও যেকোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। আর এবার বলা হচ্ছে, পায়েও দেখা দিতে পারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চিহ্ন।

গবেষকদের মতে, আঘাতের চিহ্নের মতো দেখা দিতে পারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চিহ্ন। পায়ের আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর যেমন অবস্থা দেখা দেয়, করোনায় আক্রান্ত হলেও তেমন আকার ধারণ করতে পারে।
স্পেনেরর চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে তদন্ত করছেন এই বিষয়টি নিয়ে। যাদের মধ্যে ভাইরাস রয়েছে তাদের পায়ে ক্ষুদ্র ক্ষত চিহ্ন বা আঘাতের চিহ্নের মতো কিছু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার স্পেনের জেনারেল কাউন্সিল অব অফিশিয়াল পডিয়েট্রিস্ট (পায়ের যত্নের বিশেষজ্ঞ) কলেজ একটি বিবৃতি শেয়ার করেছে। সেখানে বলা হয়, বেশ কয়েক জন করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর পায়ে ক্ষত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পায়ে কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে। এগুলো দেখতে বেগুনি বর্ণের আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষতের মতো। চিকেনপক্স, হাম বা চিলব্লেনের সাথে খুব মিল রয়েছে এসব চিহ্নের। সাধারণত পায়ের আঙুলের ওপর এগুলো দেখা গেছে। তবে কোনো রকম চিহ্ন না রেখেই এগুলো আবার ভালো হয় যায়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এটি এক ধরনের কৌতূহলী আবিষ্কার। চর্ম বিশেষজ্ঞ ও পোডিয়াট্রিস্টদের মতে, ইতালি ও ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেনের অসংখ্য কভিড-১৯ রোগীর মধ্যেও এই ক্ষত চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।

করোনায় আক্রান্ত কিশোর ও শিশুসহ অল্প বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই ক্ষতগুলো বেশি দেখা গেছে। তবে কয়েক জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এগুলো ছিল। এই বিয়ষটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

করোনা আক্রান্তের পায়ের চিহ্নটি প্রথম ধরা পরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের শরীরে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, কিশোরটির পায়ে হয়তো মাকড়সা কামড়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরই তার মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এরপর বিষয়টি নজরে আসে গবেষকদের।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য লেখাটি ‘দৈনিক শিক্ষা’র সৌজন্যে

করোনায় গরীবের ডাক্তার খ্যাত ডাঃ মঈনুদ্দিনের মৃত্যু

সিলেটের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুরের সন্তান ডা. মঈন এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি গরিব রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দিতেন। দুস্থ-অসহায় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আপনজন। দূরদূরান্তে রোগীদের বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে এবং নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেয়ার কারণে তাকে গরিবের মঈনুদ্দিন ডাক্তার বলা হতো। সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ডা. মঈনের ব্যক্তিগত চেম্বারেও গরিব রোগীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়।

গরীবের ডাক্তারখ্যাত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি আজ ভোর সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “আজ সকালে ডা. মঈন উদ্দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।” গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। উনার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। উনারা ডাঃ মইনকে করোনা যুদ্ধের প্রথম শহীদ আখ্যায়িত করেন।

ডাঃ মইন উদ্দিনের মৃত্যুতে সোস্যাল মিডিয়ায়ও নেমে এসেছে শোকের ঝড়।

আলী নুর নামে এক সরকারি কর্মকর্তা লিখেছেন, “বীরের মৃত্যু হয় না। তাঁকে শ্রদ্ধা আর সালাম জানাই। করোনা রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে প্রথম ডাক্তার হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন।”

চিটাগং ইউনিভার্সিটির সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. তানভির হায়দার আরিফ লিখেছেন, “এমন অনেককে দেখছি অনলাইনে যাদের পিপিই থাকার কথা না, ওনারা পিপিই কে চাঁদের দেশে যাওয়ার পোষাক মনে করেছেন আর অন্যদিকে একের পর এক করোনা যোদ্ধারা আক্রান্ত হচ্ছেন, পরকালের পথে যাত্রা করছেন।”

ড. কামাল উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন,
“ডাক্তার মঈনের মৃত্যুতে আমরা সত্যিই অশ্রু ভারাক্রান্ত। এটি স্পষ্ট যে ডাক্তার মঈনের চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ডাক্তার মঈনের আকুতি কারো বিবেককে নাড়া দেয়নি।”

এফ এম সুমন নামে এক সাংবাদিক তার ওয়ালে লিখেছেন, “ওপারে ভালো থাকুন মউন ভাই। মাফ করে দিবেন আমাদের । আপনার ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা আমাদের নাই। আমরা কৃতজ্ঞ । নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করবেন।”

তাজুল ইসলাম নামে একজন লিখেছে, “করোনায় শহীদ হওয়া মানবদরদী ডাক্তার মঈনের জন্য হৃদয় শোকাভিভূত।”

ওবায়দুল হক নামে একজন লিখেছেন, “খুবই ভদ্র, অমায়িক পরোপকারী মানুষ ছিলেন তিনি।”