ডোমের এই প্রথম কান্না, শেষ প্রণতি
আল মাকসুদ
লাশটা উঠে হাঁটতে লাগলো, কিছুদূর হেঁটে আবার ফিরে এলো, শুয়ে পড়লো মর্গের স্যাঁতসেঁতে ফ্লোরে;
নেশাগ্রস্ত ডোম কিছুই বুঝে উঠতে পারে না…
লাশটাই বিড়বিড় করে বলে : “এতো বড়ো হলি, অথচ এখনো চোখকান খুলে হাঁটতে শিখলি না!”
ডোমের প্রশ্ন- এসব কী হচ্ছে?
না, কিছু না; আমার সন্তানেরা আমাকে ফেলে পালাতে চাইলে,- ছোট ছেলেটা দৌড়তে গিয়ে খোলা ম্যানহোলে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলো, তাই ওকে তুলে দিয়ে আবার ফিরে এলাম…বললাম, বাবা, এভাবে অন্ধের মতো দৌড়াতে হয়?
আর কবে বড়ো হবি?
তারপর আর কি!
এবার মহাযাত্রা…
লাশটি অজ্ঞাতনামা নারীর!
তিনি নিশ্চয়ই ‘মা’ ছিলেন…ডোমের নেশা কেটে যায়, পাথরের নিশ্চলতা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে…
৩ বৈশাখ ১৪২৭
১৬ এপ্রিল ২০২০
