বিবাহ ও ডিভোর্সের অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের দাবীতে রাকিবের লিগ্যাল নোটিশ

পরকিয়া প্রেম মানব ইতিহাসে একটি কমন ইস্যু। প্রেমিকের হাত ধরে অপরের স্ত্রী পালানোর মতো ঘটনা অহরহই ঘটে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার নির্দেশনা চেয়ে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্রিকেটার নাসিরের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির সাবেক স্বামী ভুক্তভোগী রাকিব হাসানসহ তিন ব্যক্তি একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশ প্রেরণকারী অন্যরা হলেন- এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন এবং ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন ও কামরুল হাসান। তাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিবাহ ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশনের আইনগত বিধান থাকলেও তা ডিজিটাল না করার ফলে অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বিয়ে গোপন রেখে ডিভোর্স না দিয়ে বিয়ে করার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সন্তানের পিতার পরিচয় নিয়েও জটিলতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে অসংখ্য মামলার জন্ম নিচ্ছে।

তাই বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল হওয়া একান্ত আবশ্যক। বিয়ে ও ডিভোর্স ডিজিটালাইজেশন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এতে প্রতারণার হাত থেকে অসংখ্য মানুষ রক্ষা পাবে।

নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বিয়ে ও ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

বিয়ের পিঁড়িতে বসা ক্রিকেটার নাসিরের স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি তার সাবেক স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই তাকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তরা পশ্চিম থানায় এমন অভিযোগ তুলে সাধারণ ডায়েরি করেছেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান। থানায় তামিমার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন রাকিব। তামিমার সঙ্গে রাকিবের ১১ বছরের সংসারে ৮ বছরের একটি মেয়েও আছে। কিন্তু সব ফেলে নাসিরকে বিয়ে করায় থানায় অভিযোগ করেছেন রাকিব। এরপর এবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন ভুক্তভোগী রাকিব হাসান।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নাসিরের স্ত্রী পেশায় একজন কেবিন ক্রু। কাজ করেন বিদেশি একটি এয়ারলাইনসে। বর্তমানে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় নাসিরের এই বিবাহ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পাহাড় পানে মেঘের খোঁজে

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর করাল থাবা। স্কুল- কলেজ বন্ধ। চার দেয়ালে বন্দী দীর্ঘ আট মাস। ভয়, আতংককে পিছনে ফেলে ঠিক করলাম দূর পাহাড় আর মেঘের দেশে যাব দু’য়েক দিনের জন্য। জানিনা, কারো কাছে আমার এ ভ্রমণ ভাবনা অতিরঞ্জন মনে হবে কিনা! প্রথমেই বলছি, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি নিয়েই দেখবেন। করোনা আক্রমণের বিরুদ্ধে সমস্ত নিয়ম মেনেই শুরু করলাম আমাদের যাত্রাপথ। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। আমার গল্পের প্রারম্ভিকায় পাত্র পাত্রীরা যথাক্রমে —-ঃ
আমার পরিবার, বন্ধু আঁখির পরিবার, বন্ধু নাসিমার পরিবার, স্নেহের ছোট ভাই সুরুজ ও তার বউ তিশা, আদরের ভাগ্নি মুমতাহিন।

বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা হলো শুরু। শহর ছেড়ে হাটহাজারি, নাজিরহাট, ফটিকছড়ির পরই শুরু হলো সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। রামগড় চা বাগানের মনোরম পাতা তোলার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতে হতে চোখ আটকে গেলো বিস্তৃত সব রাবারের বাগানে। আলো ছায়ার নাচন দেখতে দেখতে বাস এগিয়ে যেতে থাকলো পাহাড়ের পথ ধরে। রাবার বাগানের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া এমন মসৃণ পথ শেষ করে মানিকছড়িতে এসে পড়লাম। পথের দু’ পাশে উঁচুনিচু পাহাড়ের সারি। পাহাড়ের সাথে মেঘের অবিচ্ছেদ্য মিলন। চারপাশের ঘন মেঘের কুন্ডলী ঘিরে রেখেছে উঁচু পাহাড়ের চূড়াগুলোকে। মাটিরাঙ্গার রাঙ্গা মাটি আর পাহাড়ের সবুজাভ রূপের পরই বাস এসে পড়লো আলুটিলার পাহাড়ি পাদদেশে। তারপর আমাদের গন্তব্য শহর খাগড়াছড়িতে এসেই ক্লান্তি মুক্তির পথ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা সবাই,বিশেষ করে ছোটরা। শহরের অনেকটা প্রবেশ পথেই আগে থেকে নির্ধারিত গ্রীন স্টার হোটেলে ওঠলাম সবাই। পরিপাটি হোটেল পেয়ে সবাই খুবই খুশি। রেডি হয়ে সবাই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কে চলে গেলাম। সাজানো গোছানো পার্কে চলতে লাগলো ফটোসেশন পর্ব৷ ঝুলন্ত ব্রিজের দোল খাওয়া সত্যিই ভুলার না। পাহাড়ি টঙে দই খেয়ে এদিক ওদিক ঘুরে দেখতে লাগলো সবাই। সবই পরিচ্ছন্ন, যা চোখে পড়েছে সবারই। বড় বড় গাছে দোলনা বাঁধা! ছোট বড় সবাই দোল খেতে খেতে শৈশবের আনন্দে ফিরে গেলাম । তিন বন্ধুর গল্প চলতে লাগলো সমান তালে। কত রকমের কথা, কত আগের কথা!! পার্ক পর্ব শেষে আমরা হোটেলের সামনেই ট্র্যাডিশনাল রেস্টুরেন্টে লাঞ্চের জন্য ওঠলাম। চাকমা দাদা আর দিদি নিজেরাই চালান এ খাবারের দোকান। এত মজা দিদির প্রতিটা আইটেম! রীতিমতো অবাক আমরা! সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে লোভনীয় সব খাবার। ওনাদের আতিথেয়তা হয়তো অনেকদিন মনে থাকবে।

হোটেলে বিশ্রামের পরপরই চাঁদের গাড়িতে করে আমরা আলু টিলা পরিদর্শনে বের হলাম। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এসে পড়লাম আলুটিলায়।বিশাল বটবৃক্ষের পাদদেশে লেখা, ‘ আপনি কি একজন সাহসী অভিযাত্রী? তাহলে রহস্যময় সুরঙ্গে আপনাকে স্বাগতম।’ আলুটিলার ওপরে দাঁড়িয়ে পুরো খাগড়াছড়ি শহরটাকে দেখা যায়। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে একেবারে অনেকটা নিচে অবাক করা সুরঙ্গ! হা করে যেন ভয় দেখাচ্ছে সবাইকে! প্রাগৈতিহাসিক যুগের পাথুরে গুহা। সাহস করে সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম গুহা দিয়েই বের হবো। ভয়, গা ছমছম করা দম বন্ধ অবস্থা! সাথে নতুন কিছু দেখার দুঃসাহস।মোবাইলের মৃদু আলোয় পথ চলা শুরু হলো সবার। সমস্ত ভয়কে পিছনে লাথি মেরে ছোটরাও গুহা পার হতে শুরু করলো। এ্যাডভেঞ্চার কাকে বলে!! ঠান্ডা ঝিরিঝিরি পানি, পাথুরে পথ! ওপরে ও পাথর! শেষ হলো গুহা অতিক্রম। সবাই তৃপ্ত। সত্যিকারের অভিযাত্রী সবাই।

ফিরে গেলাম হোটেলে। বিশ্রাম নিয়ে হোটেলের ছাদে পাহাড়ের সাথে লাগোয়া বাগানে সবাই লুকোচুরি খেলতে শুরু করলো। মনোরম বাগান। রুচি আর পরিশ্রমের সম্মিলিত ফসল এ বাগানটা! ছবি তোলায় মত্ত সবাই। এই গল্প, সেই গল্প!! নিউটনদা, রফিক ভাই, আমার বর— মনেই হয়নি ভিন্ন ঘরের ভিন্ন মানুষ। অথৈ, নীলা, নিহাদ, যশ — বুঝিইনি নিজের সন্তান না বলে! এ আরেক অপার্থিব জগত! সুরুজ, তিশা যেন বাচ্চাগুলোর পুনঃসংস্করণ!! আঁখি, নাসিমা এত বছরেও এতটুকু পাল্টাসনি!! আমার মেয়েরা একটা জগত পেয়ে খুবই খুশি, মা’ হিসেবে ঠিকই বুঝেছি। আবারো দাদার খাবারের দোকানে রাতের ডিনার আমাদের। প্রতিবারই চমক! এত মজা, অতুলনীয় স্বাদ! ঠিক হলো সাজেক থেকে ফিরেও একই হোটেল, একই খাবারের দোকানেই খাবো।

খুব ভোরে ওঠে নাস্তা সেরে চাঁদের গাড়িতে চড়ে সাজেকের পথে যাত্রা। শুরু হলো পাহাড় আর পাহাড়ি জীবনের মাঝ দিয়ে ছুটে চলা। দু’ পাশে পাহাড় আর পাহাড়! চারদিকে সবুজের সমারোহ। মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে তন্মন। আকাশচুম্বি পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষদেবী। পৌষে হাওয়া পাহাড় জুড়ে। মুক্তোর দানার মতো শিশিরের স্বচ্ছ ফোঁটা। সবুজ পাহাড়ে অলস কুয়াশাময় শীতের প্রকৃতি। পথের দু’ পাশে নাম না জানা বুনো ফুল৷ অভিনন্দন জানাচ্ছে সমস্ত প্রকৃতি। পথে পথে ছোট ছেলে- মেয়েরা টাঅাটাআ.. বাইইবাইই বলে সমস্বরে চিৎকার করছে। যেন নিয়মের মধ্যেই পড়েছে ওদের, অজানা অচেনা মানুষদের অভিনন্দিত করার। মানুষ ওরাই!! ভাবলাম আমি। সমস্ত পথ জুড়ে ওদের শব্দটায় কানে বাজলো যেন! তন্ময় ফিরে দেখলাম আমরা এসে পড়েছি রুইলুই পাড়ায়!! স্বপ্নের মেঘরাজ্য! প্রিয় সাজেক!! গাড়ি থেকে নেমেই পূর্ব নির্ধারিত সাজেক বিলাস হোটেলে ওঠলাম। সদ্য বানানো পরিপাটি হোটেলটা। সমতল ভুমি থেকে ১৭০০ফুট ওপরে ও আধুনিকতার ছোঁয়া। রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দা। পাহাড় যেন হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! দূরে সব পাহাড় আর পাহাড়। লাঞ্চ সারলাম “হোটেল পেদা টিংটিং ” এ। পেদা টিংটিং মানে– পেট ভরে খাও। খেয়ে একটু বিশ্রামের জন্য হোটেলে গেলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফটোসেশন হলো সবারই। চারদিকে পাহাড়, খোলা আকাশ,সবুজের সমারোহ। সুরুজের দেখানো স্টাইলে একের পর এক ক্লিক। বিশুদ্ধ বাতাস, শুদ্ধ পরশ! এক কথায় ভালোলাগার সর্বোচ্চ মুহূর্ত! শুরু হলো কংলাক পাহাড়ে যাত্রার পালা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতা এ পাহাড়ের। চাঁদের গাড়িতে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করে পথেই নেমে গেলাম হাঁটার উদ্দেশ্যে। সবাই হাঁটার সহযোগি হিসেবে বাঁশ কিনতে ব্যস্ত। আমরা অনেকেই নিইনি বাঁশ। মনে প্রবল জোর সবার! দুঃখের ব্যাপার হলো সবার সাথে আমি পাহাড়ে ওঠতে পারিনি! ছোট মেয়েকে নিয়ে টঙের দোকানে বসে রইলাম।

পাশে বসা মানিকগঞ্জ থেকে আসা ভদ্রলোকের সাথে জম্পেশ আড্ডায় মেতে ওঠলাম। চা ও খাওয়ালেন লোকটা। নাম জানতে ভুলে গেছি লোকটার। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম আমার বর এসে পড়লো পাহাড় থেকে। আমাকে আর পায় কে!! এক লাফে ওঠে দুই মিনিটও লাগেনি পাহাড়ে ওঠতে। কে যেন পিছন থেকে ঠেলছিল আমাকে! পথের মানুষরা বলতে লাগলেন, ভাই আপনি কি ট্রেকিং করেন??! কে শুনে কার কথা! ওঠেই মুগ্ধ আমি। কম বয়সী ছেলে একটাকে অনুরোধ করলাম আমাকে কয়েকটা ছবি ওঠিয়ে দিতে। সাথে সাথে ক্লিক!! রবি বাবু ভুল বলেছেন মনে হয়, পৃথিবীতে কে, কাহার?? আমি বলি, পৃথিবীতে সবাই সবার।

কংলাক পাহাড় থেকে নেমে আমরা গেলাম হেলিপ্যাডের সামনে। ওইদিন ওখানে দেখা গায়ক নোবেলের সাথে। বউ নিয়ে বেড়াতে এলেন সাজেক। ছবি ওঠালাম ওনার সাথে। বাচ্চারা নোবেলকে পেয়ে খুবই খুশি। সন্ধ্যা নেমে এলো পাহাড় জুড়ে। আকাশের সাদা মেঘগুলো যেন আমার হাতের কাছেই। অসাধারণ সাজেক! ধন্য আমরা! সকালের সাজেক এতটা মনকাড়া যে, সারাজীবন মনে গেঁথে থাকবে হয়তো। চারদিকে মেঘ আর মেঘ! কল্পনা আর বাস্তবের সন্নিবেশ! আহ! জীবনটা ষোল আনায়ই পূর্ণ হলো যেনো! মেঘের রাজ্যে নিজেকে মেঘকুমারী মনে হতে লাগলো! স্নিগ্ধ সাজেক, মেঘময় সাজেক! রূপকথার সাজেক। যেখানে পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে মেঘেরা ঘুমায়।

পাহাড় আমার কাছে ধ্যান, জ্ঞান, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আর প্রার্থনার সংযোগ। নিজেকে চেনার, নিজেকে মুখোমুখি দাঁড়াবার ক্ষেত্র। মেঘের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি সরু পথে চলা! আশ্চর্য রূপ সে প্রকৃতির, কী তার সীমাহীন নিমজ্জন আর হৃদয়ের গভীরতর সত্যের উপলব্ধি। সাজেক, আমার চেতনার রঙে রাঙিয়ে দেখবো তোমায়; আমার দেখার দৃষ্টিতেই তুমি সুবিশাল, অনন্ত।

খাগড়াছড়ি এসে জুম পয়েন্ট লাইনে কিছুটা কেনাকাটা করে আবারো আমাদের সেই গ্রীন হোটেলে ওঠা। দাদার হোটেলে লাঞ্চ সেরে চট্টগ্রামের পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি সবার। শান্তি বাসেই টিকেট করা আমাদের। মন খারাপ করা অনুভূতি। কত সহজে ভালো থাকা যায় তা শেখায় পাহাড়ি জীবনযাত্রা। নিষ্পাপ প্রকৃতি.. কর্ম পাগল পাহাড়ি মানুষ। অপূর্ব মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে আমরা ছুটতে শুরু করলাম পরিচিত প্রেক্ষাগৃহে। আবারো আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ের হাতছানি। ঘুম ঘুম চোখে সমস্ত ক্লান্তি নিয়ে বিদায় জানালাম পাহাড়ি জনপদকে। ভালো থেকো পাহাড়, ভালো থেকো মেঘরাশি। নিস্তব্ধ অনুভূতি, ঘোরলাগা ভালোলাগা! ভালোবাসি, ভালোবেসো….

লেখকঃ সুলতানা কাজী, সহকারী শিক্ষক(বাংলা), অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
২৪/১১/২০২০খ্রিঃ

ধর্মগুরুকে বিয়ে করে আলোচনার শিরোনামে বলিউড নায়িকা সানা

নাটক, সিনেমায় যেমনি আলোচনার শিরোনাম তেমনি বলিউড, হলিউড, টালিউড বা ঢালিউডের নায়ক-নায়িকারা বিয়ে করলে খবরের খোরাক বা শিরোনাম হন। এটা স্বাভাবিক বিষয়। কারণ সেলিব্রিটি বলে কথা! তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ, জীবন-যাপন নিয়ে সংবাদ হতেই পারে। এ বিষয়ে পাঠকদেরও আগ্রহ আছে। তবে এবার ভিন্ন এক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলিউড নায়িকা সানাকে নিয়ে। তিনি ইসলামি এক ধর্মগুরুকে বিয়ে করে খবরের শিরোনাম হন। বিয়ের পর পুরো চেঞ্জ তিনি। আসলে মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়। কারণে-অকারণে বদলায়, সকালে-বিকালে বদলায়!

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে নায়িকা সানার জন্য শুভ কামনা রইলো।

Aa

কারাগারে যেতে হতে পারে ট্রাম্পকে!

পদ হারানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেলে যেতে হতে পারে। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী সুবিধার আওতায় সেগুলোকে ঠেকিয়ে রেখেছেন তিনি। পদ হারানোর পর এই সুবিধা আর তার থাকবে না।

হোয়াইট হাউজের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকা মিরর জানিয়েছে এ খবর। পার্স টুডে সেই খবর উদ্ধৃত করে বলেছে, ট্রাম্প এখন যে ভোট চুরির অভিযোগ তুলছেন, তার একটি কারণ হলো জেলে যাওয়ার ভয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর হ্যারি স্যান্ডিক বলেন, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যাওয়ার পর প্রসিকিউটর ও সাক্ষীদের পক্ষে মামলা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। ফৌজদারি মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য উচ্চতর সুরক্ষা দাবি করতেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে না থাকলে এমন দাবি তিনি করতে পারবেন না।’

গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের আইনজীবী দল ম্যানহাটন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের আদালতে হাজির হওয়ার একটি আদেশ প্রত্যাহারের চেষ্টা চালায়। ট্রাম্পের আট বছরের কর প্রদান নিয়ে মামলার শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল তাকে। এ ছাড়া নিউইয়র্কের আইনজীবীরা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন প্লেবয় মডেল কারেন ম্যাকডোগাল ও পর্নতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ প্রদানের অভিযোগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন নথি জালিয়াতি করেছে কি না। ম্যানহাটনে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এ ছাড়া রয়েছে আরও একাধিক মামলা। ধর্ষণ মামলাই রয়েছে কয়েকটি। ক্ষমতা হারালে তার বিরুদ্ধে কয়েকজন নারীর যৌন নিপীড়নের মামলার পথও উন্মুক্ত হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেখক ই জিন ক্যারল। তিনি অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝিতে ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ট্রায়াল রুমে তাকে ধর্ষণ করেছেন ট্রাম্প। এই অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আমার টাইপের না। ক্যারলের ধর্ষণের মামলায় ডিএনএ নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সামার জারভোস নামের আরেক শিক্ষানবীশের মামলাও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০০৭ সালে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। এই অভিযোগকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে সবচেয়ে বড় গুরুতর ও দ্রুত বিপদ নিয়ে আসতে পারে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা। এই মামলায় ট্রাম্প দায়িত্বে থাকা সময়ের। প্রসিকিউটররা বাণিজ্যিক লেনদেন ও করের নথি চাইলেও ট্রাম্প তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে আদালত বলেছেন, এই অনুরোধ বৈধ। আরেকবার ক্ষমতায় থাকলে এসব মামলা চালিয়ে নেওয়ার পথ হয়তো চিরতরে বন্ধ করার পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু সে সময় হয়তো তিনি আর পাচ্ছেন না।

পরাজিত হলেও ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন শপথ গ্রহণের আগে শেষ দিনগুলোতে হয়তো যেকোনো ফেডারেল অপরাধ থেকে নিজেকে দায়মুক্ত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন ট্রাম্প। এরপরও ক্ষমতা ছাড়ার পর অন্য কয়েকটি মামলায় বড় ধরনের জেল-জরিমানার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এখন এটাই তার বড় ভয়।

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জয়ের মধ্য দিয়ে জো বাইডেন ২৭৩টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৩টি ইলেকটোরাল ভোট।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর ও সময়ের কন্ঠস্বর

জীবন খুবই অনিশ্চিত!

সম্প্রতি বান্ধুবি পরিমনির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন মডেল ও অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিন। অনুষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ফারিয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন,

“সারপ্রাইজ! 
আমার বান্ধবী পরীমণিকে শুভ জন্মদিন।
আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছি যে, আমরা কোনো কারণ ছাড়াই ঝগড়া করছি। আগে আমরা যা করেছি সে জন্য আমরা দুই জনই দোষী। এখন আমরা বন্ধু।

জীবন খুবই অনিশ্চিত। তাই আর কোনো ঝগড়া নয়।”

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

সুশান্তের মৃত্যু: দীপিকা-শ্রদ্ধা-সারাকে এনসিবি’র তলব

আগেই ধারণা করা হচ্ছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের তদন্তে মাদককাণ্ডে ডাকা হতে পারে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে। এবার সেটিই সত্যি হতে যাচ্ছে।
তবে শুধু তিনিই নন, ভারতের নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোতে (এনসিবি) ডেকে পাঠানো হয়েছে শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলি খানকেও।
আগামী তিন দিনের মধ্যে এই বলিউড অভিনেত্রীদের তাদের দফতরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনসিবি। আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ জারি করে সংস্থাটি।
পাশাপাশি সমন জারি করা হয়েছে ভারতীয় অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং ও নম্রতা শিরোদকার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার সিমোন খামবাট্টার বিরুদ্ধে।
যার ফলে সুশান্ত মৃত্যু মামলায় মাদক সম্পৃক্ততায় পুরো বলিউডে এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভারতীয় প্রশাসনের মুখোমুখি হতে হবে আরও অনেক তারকাকে।
অন্যদিকে, মাদকের তালিকায় দীপিকার নাম এসে যাওয়ায় গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত দীপিকা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দীপিকার টুইটারে শেষ পোস্ট করা হয়েছে গত ১৯ জুলাই।
উল্লেখ্য, সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মামলায় মাদকযোগে এনসিবি এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী ও রিয়ার ভাই শৌভিককে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তারা জেল হাজতেই আছেন। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভারতীয় প্রশাসন একের পর এক ধরছে সব মাদক ব্যবসায়ীকে। সুশান্তের মৃত্যু মামলা কার্যত এখন মাদক মাফিয়া ধরার অভিযানে রূপ নিয়েছে।

চলে গেলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রো কিশোর

ডেস্ক রিপোর্টঃ না ফেরার দেশে চলে গেলেন “এক জনমে ভালবেসে মিটবেনা স্বাদ মিটবেনা” এর জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। মরণঘাতী ক্যান্সারের কাছে হার মেনে সোমবার সন্ধ্যায় জন্মস্থান রাজশাহীতে মারা গেছেন তিনি। এর আগে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছিল তাকে।
নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি এই গায়ক। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করেও ক্যানসার নির্মুল হয়নি প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের। চিকিৎসক হাল ছেড়ে দেওয়ায় ক্যান্সার নিয়েই ৯ মাস পর গত ১১ জুন দেশে ফেরেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজশাহীতে ছিলেন।

এর আগে, রোববার রাত ১০টার দিকে এন্ড্রু কিশোরের ফেসবুক পেজ থেকে তার স্ত্রী একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার বিবরণ জানিয়ে লেখেন, ‘ক্যানসার এর লাস্ট স্টেজ খুব যন্ত্রণাদায়ক ও কষ্টের হয়। এন্ড্রু কিশোরের জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায় এবং একটু শান্তিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে পারে।’

তিনি লিখেছেন, এটাই শেষ পোস্ট, এরপর আর কিছু বলা বা লেখার মত আমার মানসিক অবস্থা থাকবে না। এখনও মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন মনে হয়, কিশোর থাকবে না অথচ আমি থাকবো, মেনে নিতে পারছি না।

এই অসময়ে, সবাই সাবধানে থাকবেন, নিজের প্রতি যত্ন নিবেন, সুস্থ থাকবেন, ভাল থাকবেন আর এন্ড্রু কিশোরের এর প্রতি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি রাখবেন ও প্রাণ খুলে দোয়া করবেন।

এদিকে, সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এই খ্যাতিমান শিল্পির মৃত্যুতে আমরা ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবার গভীরভাবে শোকাহত!

শাহ আলম পেকুয়া উপজেলা প্রবাসী ঐক্য পরিষদের সভাপতি বায়তুল সম্পাদক

ওসমান গণিঃ পেকুয়া উপজেলা প্রবাসী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০২০ এ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে সৌদি প্রবাসী মোঃ শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বায়তুল মোকাদ্দেস। নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সহ সভাপতি-১ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সহ সভাপতি-২ জি এম কাদের, সহ সভাপতি-৩ জয়নাল আবেদীন, সহ সভাপতি-৪ ইউসুফ আকবর, সহ সভাপতি-৫ এইচ এম রিয়াজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শাহিনুল কবির আপেল, সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন মণি, অর্থ সম্পাদক- মোহাম্মদ তানভীর, সহ -অর্থ সম্পাদক- নাজিম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক-মোহাম্মদ হাশেম, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক-শওকত হোসাইন, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক-তাহসিন হামিদ ইয়াসিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক-এস এম ছরওয়ার উদ্দীন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক- মোজাহিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক-আবুল কাশেম মান্নান, সহ-প্রচার সম্পাদক-মোঃ রিদওয়ানুল ইসলাম হৃদয়, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক- আবদুল হালিম, সহ- সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক- এস এম কফিল উদ্দীন রানা,
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক-আপেল কান্তি সুশীল, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক- ওমর সিদ্দিক, ক্রীড়া সম্পাদক- মোঃ রাশেল, মৎস বিষয়ক সম্পাদক-শফিউল আলম।

আজকে অনলাইনে নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনাব ড. জাকির হাওলাদার। উক্ত নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে চিটাগাং ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জনাব জনাব এস.এম. তৌহিদুল ইসলাম ও পেকুয়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মোঃ শামসুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন কমিশনকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ বেলাল উদ্দীন, আজিজুল হক, মোহাম্মদ মোস্তফা ও ইসমাইল খান। উপদেষ্টাগণ নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান এবং এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠন আরোও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন রাজনৈতিক দল AB পার্টি নিয়ে বিভিন্নধরনের প্রতিক্রিয়া

ওসমান গনিঃ গতবছর বিদেশে অবস্থানরত জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক পদত্যাগ করার পর পার্টি নিয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের দায়ে ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে বহিস্কার করা হয়। এর পরপরই সাবেক সচিব সোলায়মান চৌধুরী ও যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতাদের কৌশলী এডভোকেট তাজুল ইসলামকে নিয়ে “জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ” নামে একটি মোর্চা গঠন করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২ মে সাবেক সচিব সোলায়মান চৌধুরী ও জামায়াত থেকে বহিস্কৃত ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মজিবুর রহনান মঞ্জুর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক দল “আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।” ২২২ সদস্যের কমিটিতে এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী আহবায়ক এবং মজিবুর রহমান মনজু সদস্য সচিব। এই কমিটির অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।

এই পার্টি গঠন নিয়ে যদিও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনোও পর্যন্ত কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক মধ্যম সারির নেতা বলেন, “এত বড় একটা পার্টি থেকে ২/৪ জন লোক চলে গেলে তাতে কি আসে যায়? মঞ্জুর সাথে যারা পার্টি করতেছে তাদের অধিকাংশই সাবেক শিবির এবং বর্তমানে জামায়াতের সাথে এদের কোন সম্পর্ক নাই বললেই চলে।”

অবশ্য এবি পার্টির নেতাদের দাবী আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের লোকজন তাদেরকে গালিগালাজ করছে। ১৪ মে প্রকাশিত তাদের পার্টি ফেসবুক পেইজে জনাব মঞ্জু অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ,ঘাদানিকের পাশাপাশি জামায়াতের তির্যক আক্রমণের শিকার হচ্ছে।”

বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়াঃ
বিশিষ্ট কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার এক নিবন্ধে লিখেন, ”বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল গঠনের অনেক নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সেটা খুবই ভাল। কিন্তু সাইনবোর্ড টানালেই সেটা রাজনৈতিক দল হয় না। দোহাই, পুরানা তেলে বাসি তরকারি ভেজে মেহমানদারি করবেন না। সাফ সাফ বলুন, আপনার লড়াই ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। পরিষ্কার। ধানাই পানাই না। নইলে আপনি ফ্যাসিস্টদের পোষা কুকুরের অধিক কিছু নন। “

গোলাম মাওলা রনি এবি পার্টির ব্যপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ৬মে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
“ডাঃ শফিকের জামাত বনাম মজিবুর রাহমান মঞ্জুর জামাত ওরফে আবি পার্টি !”

এ বিষয়ে জামায়াত ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান প্রথম আলোতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি যতটুকু জানি, জামায়াত এ বিষয়ে একদমই চিন্তা করছে না।’ তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, যারা একটি ইসলামী দল থেকে বেরিয়ে নতুন দল করল, তাদের ঘোষণাপত্রে ‘ইসলাম’ শব্দটি একটিবারও নেই। তাহলে কি তারা মূলত জামায়াত থেকে ইসলামেরই সংস্কার চেয়েছিল?”

প্রিয় পাঠক, এবি পার্টি নিয়ে ফেসবুকে প্রকাশিত বিভিন্নজনের স্ট্যাটাস ও কয়েকটি মন্তব্য এখানে তুলে ধরা হলোঃ

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম তার প্রতিক্রিয়ায় নিজ টাইমলাইনে লিখেন, “Covid 19 এর সাথে সাথেই বাংলাদেশে নতুন ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে গতকাল । নাম দেওয়া হয়েছে ABP অর্থাৎ
আবার বানাবো পাকিস্তান ।”

এমডি তোফায়েল আহমদ তুহিন নামে একজন প্রশ্ন করেছেন, “আওয়ামীলীগ হলো ধর্মনিরেপক্ষ রাজনৈতিক দল। এই মনজুভাই ছাএশিবির/ জামাত থাকা কালীন বলেছে।হাছিনা ভারতের দালাল। এখন তো এবি পাটী ও ধর্ম নিরেপক্ষ তাহলে কার দালাল?”

কামরুল হাসান নামে একজন লিখেছেন, AB Party.
A=আল
B=বদর
P=পার্টি।

আল বদর পার্টি!!

আনসার চৌধুরী নামে একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছে, “এক নব্য আঁতেল এইদেশে জামায়াত শিবিরের নামে এসাইলাম কবুল করে এখন ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লেখা শুরু করেছে. হiয় সেলুকাস!”

এমডি রাশেদুল ইসলাম নামে একজন লিখেছে, এটা “আবাল, বলদ পার্টি”

পিয়াস মিয়া লিখেছে, “সমকামী পার্টি”
মোঃ হাসান আল-মামুন মন্তব্য করেছেন, “নতুন এক হিযবুত তাওহিদের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে। ইসলাম প্রিয় জনগনকে সতর্কভাবে নতুন এই ফেত্নার মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে ।”
মুহাম্মাদ একরামুল হক তিহামী মন্তব্যে লিখেন, “সবাই মন্জুরে একটু গান্জা দাও! বেয়দবটা মাতলামি ছেড়ে দিক।”

এমডি মিরাজ খান মন্তব্য করেছেন, “নতুন রাজনৈতিক নামের দোকান বর্তমানে এই দোকানের ব্যবসা খুব বেশি তাই নতুন নামে আত্মপ্রকাশ টাউট কোম্পানি।”

তৌহিদ চৌধুরী নামে একজন প্রশ্ন রাখেন, ‘শিয়াল সবসময় মুরগির স্বাধীনতা চায়, সোলায়মান সাহেব, ও মজিবুর রহমান মঞ্জুর ,অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, কি চায় এখনো জাতি জানে না।”

সাকিল আর সালান নামে এক এবি পার্টি কর্মী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ” শি‌বির আপনারও‌ যৌব‌নের প্রথম মুগ্ধতা। তাই ব‌লে তার বাপ সংগঠন আপনার শি‌বির মুগ্ধতার মত এত স্বচ্ছ, র্নিমল ফোয়ারার মত নয়। শি‌বিরে যতটুকু বু‌রো‌ক্রেসী নাই, ঠিক তার সহস্রগুন জামায়া‌তে বু‌রো‌ক্রেসী।” তিনি আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “বি‌ভিন্ন ক্যাটাগরী‌তে ৩০০ আন‌ফ্রেন্ড করলাম। এ‌বি পার্টির সর্মথক কর্মী, সদস্য, সংগঠক, সমন্নয়ক, প্র‌তি‌নি‌ধি, শুভাকাঙ্খী, প্লানার, প‌লি‌সি মেকার, উপ‌দেষ্টা, ডোনার, দোয়াকারী সবাই‌কে ফ্রেন্ড‌লি‌স্টে স্বাগতম।” যদিও সরাসরি বলেননি কিন্ত তিনি আসলে তার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে জামায়াত পন্থীদের বাদ দিয়ে দেন।

জোবায়ের আল মাহমুদ নামে একজন এবি পার্টি সমর্থক সমালোচনার জবাবে লিখেন, “এরদোয়ান নতুন দল গঠন করার পরে তাকে যার পর নাই সমালোচনা করা হয়েছিলো।…তুরস্কে একে পার্টি গঠনের পরে যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো, সে তুলনায় বাংলাদেশে এবি পার্টির সমালোচনা নেই বললেই চলে।”

সুজন হাফিজ জোবায়ের আল মাহমুদের যুক্তির জবাবে লিখেন, “ইরানের বিপ্লবের পর তৎকালিন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও তার আবেগী কিছু অনুসারীরা ইরানী স্টাইলে গন বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ছিলেন। তাদের শ্লোগান ছিল নির্বাচন নয় গনআন্দোলন। তারপর কত সপ্ন ভঙ্গের ইতিহাস নিজ চোখে দেখতে হলো।
আরব স্প্রিং আর তারকির এরদোগানের উত্থানের পরে নূতন কিছু আবেগীদের নাচানাচি দেখছি। এসব আবেগী ভাইদের আরব রাষ্ট্র সমূহ এবং তারকির সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতাই প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদের তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে মানুষের কল্যাণে আল্লাহ্, নবী রাসুলগনের চেয়েও ওরা বেশি পেরেশান।
নবী রাসুলগনের চিরন্তন পদ্ধতি পাশ কাটিয়ে তরিৎ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যদি আখিরাত বরবাদ হয়ে যায় তাহলেও কোন অসুবিধা তারা অনুভব করেন না।
যেখানে কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী ব্যাক্তি গঠন ও সমাজ গঠনের সুযোগ থাকবে না সেখানে ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা থাকতে পারে না।”

আবদুল কাহির মন্তব্য করেছেন, “রাজাকারদের নতুন প্রজন্মের নাম এবি পার্টি।”
আলী সরোয়ার টিটু “আমার বাংলাদেশ পার্টি” নামকরণ বিষয়ে একজনের ইনডাইরেক্ট একটি স্ট্যাটাসের মন্তব্যে লিখেন, “রাজাকারের বাচ্চাদেরও আবার বাংলাদেশ?
আমার পাকিস্তান দল বানা গিয়ে।
আসলে চিহ্নিত রাজাকার, তাদের পরিবার আর তাদের সাপোর্টারদের আগেই দেশের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক ঘোষণা করে এদের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেয়া উচিত ছিল।”
মোহাম্মদ জাহেদ নামে একজন মন্তব্যে লিখেছে, “এটা জামায়াতের নতুন কৌশল।
ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং মজিবুর রহমান মন্জু সহ এবি পার্টির সবাইকে অবিলম্বে গ্রেফতার এর দাবি জানাচ্ছি।”

আন্দালিব রহমান নামে একজন মন্তব্যে লিখেন, “রাজাকারের উপ্রে রাজাকারি রাজাকার দ্যা গ্রেট মঞ্জু!! সফল সেক্সিনা”।

রিয়াদ শুভ্র নামে একজন মন্তব্যে লিখেন, “এবি পার্টি নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিদিন সভা সেমিনার চালিয়ে যাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ বিস্তারে এসব সভা সেমিনার যথেষ্ট। রাজনীতি করার আর সময় পেল না!”
মোঃ দোহা আবদুল্লাহ নামে এক ফেসবুক আইডিতে লেখা হয়েছে, “সরকারী দমন এড়াতে দৃশ্যত জামায়াতের ভেতরের একটি চতুর গ্রুপ AB Party বানিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মীয়কট্টরপন্থী দলের তো অভাব নেই। তাহলে এদের space কোথায়?”

এবি পার্টিকে অনেকে জামায়াতে ইসলামীর ‘বি-টিম’ বলে অনেকে মনে করছেন- এ বিষয়ে পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মনজু যুগান্তরকে বলেন,

“আমাদের কেউ বলছে জামায়াতের বি-টিম, আবার কেউ বলছে আমরা সরকারের বি-টিম।
সরকার এবং জামায়াত দু’পক্ষই আমাদের গালি দিচ্ছে ও চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। উভয়পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে একজোট।…

তিনি তার পার্টির পেইজে পূর্বের দলীয় পরিচয় নিয়ে লিখেন, “এ বি পার্টির সংগঠকদের পূর্ব রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মনজু বলেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তো মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামীলীগ করেছেন।’ এরকম আরো অনেক রাজনৈতিক নেতা, উদ্যোক্তা ও দলের উদাহরণ রয়েছে আমাদের দেশ ও পাশ্ববর্তী দেশে।”

ফেসবুকে এভাবে নতুন পার্টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে ফারদিন ফরহাদ নামে একজন এক মন্তব্যে লিখেন, “এখন দেখছি জামাত শিবিরের লোকগুলাও অন্যদের মতো গালাগাল করে!”
এই মন্তব্যের জবাবে এম মাহফুজুর রহমান নামে একজন লিখেন, এখানে যারা কটুক্তি করেছে,অবশ্যই সকলে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবির সাথে সকলেই স্বক্রিয় না। স্বক্রিয় কোন শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক,কর্মী, সদস্য বা দায়িত্বশীল আর যাই হোক সে/তিনি কাউকে কটুক্তি বা অহেতুক আচরণ করতে পারেন না।”

Solaiman Masum নামে একজন তার স্ট্যাটাসে প্রথম আলোতে এবি পার্টির আহবায়ক সোলায়মান চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে লিখেন,

“প্রথম আলো: নতুন দল গঠনের পর সাবেক দল জামায়াতের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?
সোলায়মান চৌধুরী: জামায়াত এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, এমন খবর পাইনি।

প্রথম আলো: এবি পার্টির অনেকেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সময়ে এসে জামায়াত সম্পর্কে আপনাদের মূল্যায়ন কী?
সোলায়মান চৌধুরী: আমি যেহেতু জামায়াতে ইসলামি থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমার উচিত হবে না, নৈতিক হবে না, তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলা।

(উপরের কথা গুলো এবি পার্টি পাবলিক গ্রুপে পোস্ট করা প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের অংশ বিশেষ )

জামায়াতের নেতৃবৃন্দরা Abp নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এমন সংবাদ কোথাও দেখিনি। শাহ আবদুল হান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী জামায়াত এ বিষয় নিয়ে কোন চিন্তাই করছেনা। অথচ উক্ত প্রতিবেদনে এ বি পার্টির প্রধান মুখপাত্র মজিবুর রহমান মন্জু জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর জাতীয় পত্রিকায় জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি-ধমকি দানের মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। অভিযোগটি সত্য হলে জামায়াত অবশ্য একটি নিন্দনীয় ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ করেছে।এখন প্রশ্ন হলো জামায়াত কি আদৌ এমন কোন হুমকি ধমকি দিয়েছে নাকি সাধারণ কর্মী সমর্থকের কোন প্রতিক্রিয়াকে গায়ে মেখে ট্যাগ মুক্ত হয়ে কারো আনুকূল্য লাভের হীন উদ্দেশ্যে জনাব মন্জু উক্ত অভিযোগ করেছেন ? কোনটা সঠিক ? এখানে মজার ব্যাপার হলো একই পত্রিকার প্রশ্নোত্তরে সোলায়মান চৌধুরী বলেছেন জামায়াত এখনো কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।তাহলে জনাব মন্জুর অভিযোগ যে মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত তাতে আর কোন সন্দেহ থাকলোনা।”

থাপ্পর!

থাপ্পর !
মু. আমজাদ হোসেন


টিভি, টেবিল ফ্যান, ব্লেন্ডার কিংবা এ ধরনের জিনিস ঠিকমতো কাজ না করলে দু’ একবার থাপ্পর লাগাই আমরা । মাঝে মাঝে থাপ্পর খেয়ে ঠিকই কাজ করা শুরু করে এসব ।

সদ্য ভূমিষ্ট শিশু না কাঁদলে উল্টো করে তার পিঠে একটা থাপ্পর লাগানো হয় । কেঁদে উঠে সে ।

বাসের গায়ে এক থাপ্পর দিয়ে বাসকে থামিয়ে ফেলে হেল্পার । দুই থাপ্পরে আবার বাস ছোটা শুরু করে । যাত্রীরাও মাঝেমাঝে কন্ডাক্টরকে অনুকরন করে এই সুবিধা নেয় ।

তরমুজের গায়ে দু’ এক থাপ্পর মারলে তরমুজ আওয়াজ করে ফলবিক্রেতাকে জানিয়ে দেয় কতটুকু পেকেছে কিংবা পচেছে সে ।

গরু থমকে গেলে কিংবা মন্থর হয়ে পড়লে তাকে গতিশীল করতে নিতম্বে সশব্দে দু’ একটা থাপ্পর বসায় কৃষক এবং রাখাল । আর কুরবানীর হাটে নিতম্বে পাবলিকের থাপ্পর খেয়ে গরু নিজের সুস্থতার প্রমান দেয় ।

সোফা কিংবা আরামদায়ক কোন সিটে বসার আগে দু’একটা থাপ্পর দিলে ধুলোরা ভয়ে পালায় ।

ডোরবেল কিংবা কড়া না থাকলে দু’এক থাপ্পর খেয়ে দরজা ভেতরের মানুষকে খবর পাঠায় ।

শিশুদের গাল আর পিঠগুলিকে চিরকালই পছন্দ করে এসেছে মা-বাবার হাতের শাসনের থাপ্পর । ছাত্র-ছাত্রীদের পিঠগুলিও একদিন শিক্ষকদের খুব পছন্দের যায়গা ছিল ।

শুধু কি শাসনের থাপ্পর, মানুষের পিঠগুলি বাহবা’র থাপ্পর খেয়ে উৎসাহিত হয়েছে যুগ যুগ ধরে ।

সত্যি, থাপ্পরের কত মাহাত্ম্য ! 😁

লেখকঃ মু. আমজাদ হোসেন, সহঃ অধ্যাপক, ইংরেজি, কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, লক্ষ্মীপুর ।