আমার পেশার জন্য আমি গর্বিত

আমার পেশার জন্য গর্বিত
সুলতানা কাজী
খুব ছোটবেলায় আইসক্রিম ওয়ালার পেটি থেকে আইসক্রিম বের হওয়া দেখে, মনে মনে ভাবতাম..বড় হয়ে আইসক্রিম ওয়ালাই হবো!! এরপর পাইলট, রেলগাড়ির চালক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কেই’বা হতে চাইনি!! আমি হতে চেয়েছিলাম, কোদাল হাতে সারাদিনময় ঘাস তুলে গরু, ছাগলের মুখে দিতে!! সহজ ভাষায় ‘রাখাল’ হতে চেয়েছিলাম।!

আমার বড় বেলায় এসে ইচ্ছেগুলো ডানা ঝাপটাতে শুরু করলো! কখনো বিমানবালা আবার কখনো সখনো শুধুই রাঁধুনি!! ছোটবেলা থেকেই রান্নার হাত ভালো ছিলো বলেই হয়তো!! এর ও পর, হঠাৎ মাথায় চাপলো উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে নিবো! একদিন চট্টগ্রাম টেলিভিশনে অডিশনে গিয়ে দেখি, সময়ই শেষ হচ্ছেনা!! আসতে বলা হলো দশটায়! কিন্তু চারটার সময়ও কারো কোনো সাড়া নাই দেখে ক্ষোভ নিয়ে বাসায় চলে আসলাম!! সাঙ্গ হলো আমার উপস্থাপনার শখ!!

অবশেষে পেশা হিসেবে আমার কপালে ঠাঁই হলো এক মহান পেশার!!..। হয়ে গেলাম আমি… ‘শিক্ষক’।। ভাইভা বোর্ডে তিন বছরের ভিতর চাকরি ছাড়বোনা বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি এখনও বহাল তবিয়তে একই প্রতিষ্ঠানেই আছি!! হুম, অংকুরেরই বাংলা শিক্ষক আমি।

পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানীয়, দায়িত্বশীল এবং অনুপ্রেরণা সৃষ্টিকারী পেশা– শিক্ষকতা। বর্তমানে এটা আমার নেশা ও। কাউকে কিছু বুঝাতে পারা, নতুন কিছু শেখানোর মাধ্যমে তাদের মনের জানালাকে খুলে দিতে পারা— এ সবের মাঝে যে অসাধারণ তৃপ্তি আছে, তা আমি অন্য পেশায় পেতামনা। আমি একা নই, প্রায় সকল শিক্ষকই শিক্ষকতা করেন এ কারণেই। মনের আলো জ্বালানো, জ্ঞানের আলো বিলানোটা পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতার মাঝে পড়ে। আর শিক্ষার্থী যখন দেশ বিদেশের সেরা সব জায়গায় নিজের যোগ্যতায় স্থান করে নেয়, তখন তাদের জীবনে কিছুটা হলেও আমার অর্জন আছে বলেই শিক্ষকতা পেশায় আসার জন্য আমার খুব বড় অনুপ্রেরণা।

আমরা শিক্ষকরা সত্যিকারের মানুষ নিয়ে কাজ করি। আমরা প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের পড়াই। পড়তে না চাইলে ভয় ভীতি দেখাই। তারা ভালো কিছু করলে খুশিতে আটকানা হয়ে যাই। তারা ভুল করলে লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। কেউ পাস করে চলে যায় আবার কেউ নতুন করে প্রবেশ করে।

প্রাচীন গ্রীস সক্রেটিসের সময় থেকে আজকের এই শতাব্দীতে এসে অনেক পেশা হারিয়ে গেছে, অনেক পেশার উত্থান ঘটেছে, কিন্তু শিক্ষকতা টিকে আছে তার সম্মানের জায়গায়। আত্মিক একটা সম্পর্ক জিইয়ে তার শান সৃষ্টি করাই আমার মতে” শিক্ষকতা”।।

আমরা কাজ করি রক্ত মাংসের মানুষ নিয়ে। যাদের চোখে রঙিন চশমা এবং যারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। আমার এলেবেলে লেখায় আমি কতটুকু বুঝাতে পেরেছি জানিনা, তবে আমার পেশা নিয়ে আমি গর্বিত। এ আমার খোলা জানালায় লম্বা শ্বাস নেয়ার মতোই। আমার অক্সিজেন, যাকে ছাড়া আমার দম ফেলবার নয়!! আমার পেশাও…

পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি শুভেচ্ছা। জ্ঞানের আলো জ্বালানোর এ কারিগরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সুস্থ পৃথিবীতে আবারো আলো জ্বালবো!! যেমনটা জ্বালিয়েছি পশ্চাতে!!!

লেখকঃ সুলতানা কাজী,

সহকারি শিক্ষক(বাংলা)
অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে স্কুল-কলেজের ছুটির ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতো দীর্ঘ ছুটি দেশের ইতিহাসে প্রথম।

সোমবার (১৫ জুন) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলমান ছুটি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্ত রবীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, সব ধরণের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন ৬ আগস্ট পযন্ত বন্ধ থাকবে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আজ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১৭ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সব স্কুল-কলেজ-মাদরাসায়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। একই সাথে বন্ধ রয়েছে সব কোচিং সেন্টার।

সীমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা শুরু

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ গতকাল ০২ জুন থেকে সীমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসমূহ খোলা শুরু হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে গত ১৭ মার্চ থেকে। এ পরিস্থিতিতে ছাত্রভর্তি, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মত প্রশাসনিক কাজে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস সীমিত আকারে খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়েরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এ লক্ষ্যে ছাত্র ভর্তি, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তবে অসুস্থ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, সন্তানসম্ভবা নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ/স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জারিকৃত সকল স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে কোচিং সেন্টার বা কিন্ডারগার্টেন খোলার বিষয় কিছু বলা হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

কলেজগুলোতে ২০২০ সালের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য যে, গত ৩১ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। অতীতে ফল ঘোষণার পরপরই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর বিলম্ব হচ্ছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু এখনই নয়

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ প্রতিবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফল প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সহসাই ভর্তি সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে না। সামাজিক দূরত্ব কার্যকরের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র থেকে এ কথা হানা যায়। আন্ত:শিক্ষা বোর্ড থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির লক্ষ্যে ৬ জুন অনলাইনে আবেদন শুরু করার প্রস্তাব আসলেও মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাছাড়া ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা আছে। এর আগেই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাব।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, প্রতি বছর দেখা যায় ভর্তির ফল প্রকাশের পর বোর্ডে দৈনিক ৪-৫ হাজার শিক্ষার্থীর আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি।

ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত যে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৭২৬ জন এসএমএসের মাধ্যমে রেজাল্ট পেতে নিবন্ধন করেছে। এসব শিক্ষার্থীর ফল সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী মনজুরুল কবীর।

এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন অনলাইনে শুরু আজ

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ গতকাল ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে৷ যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি তারা আজ থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। যারা আশানুরূপ ফল পাবেন না তাদের জন্য এই ব্যবস্থা। ৭ জুন পর্যন্ত ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমীরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি মারফত এ কথা জানা যায়।

জানা গেছে ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। টেলিটক সংযোগ থেকে RSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে, এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC <স্পেস> YES <স্পেস> পিন নম্বর <স্পেস> যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে, সেসব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাস করেছে ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবার এই পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গতবারের তুলনায় এবছর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

গতকাল সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে এসএসসি ও সমমানে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। পরে শিক্ষামন্ত্রী ফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ সংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হারে এগিয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড এবং সর্বনিম্ন সিলেট বোর্ড

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার সকালে সাড়ে ১০ দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসএসসির ফল প্রকাশ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সকাল ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন থেকে ফেইসবুক লাইভে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন। গতবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল পরীক্ষার্থী ছিল ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাস করেছে ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবার এই পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গতবারের তুলনায় এবছর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

এসএসসিঃ এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ২৮ হাজার ৮৮৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৯১৮ জন ছাত্র, ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩২২ জন ছাত্রী।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে ৮২ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪৭ জন।

কুমিল্লা বোর্ডে ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন।

রাজশাহী বোর্ডে ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন।

বরিশাল বোর্ডে ৭৯ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩ জন।

যশোর বোর্ডে ৮৭ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন।

সিলেট বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন।

দিনাজপুর বোর্ডে ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৬ জন।

ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮০ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৪৩৪ জন।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবার এই পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৫১৬ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ২৮৭ জন পরীক্ষার্থী। দাখিলে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ এর সংখ্য বেড়েছে।

দাখিলঃ চলতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু দাখিলের পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫৪ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী।

এসএসসি ভোকেশনালঃ চলতি বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শুধু এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৫ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে ৯৫ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থী।

এবছর সবচেয়ে বেশী পাশের হার রাজশাহী বোর্ডে ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন।
এবং সবচেয়ে কম পাশের হার সিলেট বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন।

আগামীকাল এসএসসির রেজাল্ট, ঘরে বসেই যেভাবে ফলাফল জানতে পারবেন

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ আগামীকাল রোজ রবিবার বার বেলা ১২টায় সারা দেশে একযোগে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ কথা জানা যায়।

তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পূর্বেই ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত ২১ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মারফত এ কথা জানা যায়।

উল্লেখ্য যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশের ঐতিহ্য থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর তাতে বিঘ্নতা ঘটে। অতীতের ন্যায় এবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রে ফলাফল দেওয়া হবেনা। করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখতে জমায়েত ঠেকাতে অনলাইনেই কেবল এবছর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

SSC-2020 ফলাফল এর প্রি-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরাসরি আপনার মোবাইলে ফলাফল পেতে নাম্বার থেকে এখনি টাইপ করুনঃ
SSC<>Board Name<>Roll<>Year
আর পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বার এ।

এছাড়াও ওয়েবসাইটে লগিং করে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে পারেন।

বোর্ডসমূহের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটসমূহঃ

www.educationboardresult.gov.bd
www.eboardresults.com
www.barisalboard.gov.bd
www.comillaboard.portal.gov.bd
5.www.dhakaeducationboard.gov.bd
www.jessoreboard.gov.bd
7.www.mymensingheducationboard.gov.bd
8.www.rajshahieducationboard.gov.bd
www.sylhetboard.gov.bd
10.www.dinajpureducationboard.gov.bd
www.bteb.gov.bd
www.bmeb.gov.bd

ছুটি শেষে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা

ছাত্র-ছাত্রী ডট কমঃ প্রায় দুই মাসের উপরে হয়ে গেলো দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ২৫ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। ৩০ মে পর্যন্ত এই বন্ধ কার্যকর রয়েছে। ৩০ মে’র পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হলে আগের মতো পরিচালিত হবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য সচেতনতা। শিফটিং ও রেশনিং করে ক্লাস নেয়ার কথা চিন্তা করত হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্ব পাবে বেশি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লাসে আগে যেমন একসঙ্গে পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা ছিল, তা থাকবে না। টিফিনে দল বেঁধে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশও বদলে যাবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হবে। এসব বিষয় চিন্তা করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হোক বা না হোক বিকল্পভাবে পাঠদান চলবে সারাবছরই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ‘করোনা বিস্তার কমে গেলে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়, তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে। আগের মতো করে স্বাভাবিক নিয়মে ক্লাসসহ শিক্ষা কার্যক্রম চলবে না। কারণ করোনাভাইরাসের এই সমস্যা রাতারাতি নির্মূল হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগেই সব প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে যে জটলা সৃষ্টি হবেবিভিন্ন তা কীভাবে সমন্বয় করা হবে তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছেন কিনা তা যাচাই করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারোনা রোগ নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বিকল্প হিসেবে।’

করোনার বিস্তার রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি চলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময় ঘরে বসেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ছুটি বাড়তে পারে এমন সম্ভাবনায় সব শিক্ষার্থীকে পাঠদানের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে জানিয়েছিলেন পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। বর্তমানে ৩০ মে পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

তবে করোনা পরিস্থিতি ভালোর দিকে গড়ায় তাহলে দীর্ঘদিন বন্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার।

বন্ধ থাকা কালে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস চলছে এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ক্লাস আপলোড করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ভিডিও ক্লাস চলছে। এছাড়া ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে একটি ওয়েব পোর্টাল ডেভেলপ করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে তার একটি গাইড লাইন দেয় শিক্ষা অধিদফতর। গত ২ মে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমান্বয়ে চালু করার সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও পেশার জন্য কারিগরি নির্দেশনা’ শীর্ষক পুস্তিকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়। এই গাইডলাইন ধরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার নির্দেশনা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই গাইডলাইন বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।

করোনা পুরো নির্মূল না হলে বা পরিস্থিতি খুবই অনুকূলে না গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রাজধানীর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাদাগাদি করে ক্লাস নেওয়া হয়। বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেঞ্চগুলো চার বা সাড়ে চার ফিট। এসব বেঞ্চে বসানো হয় তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী। এ কারণে সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে শারীরিক দূরত্ব মেনে ক্লাস করানো সম্ভব হবে না।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে ঢোকার সময় এবং ক্লাস নেওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাছাড়া শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্লাস চালাবে এমন অবকাঠামো বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই। তাই করোনা সংকট না কাটলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ঝুঁকির বিষয়। তাছাড়া অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনে শিক্ষাবর্ষ বাড়িয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যেতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া অনিরাপদ হবে। তবে পরিস্থিতি ভালোর দিকে গড়ালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়টি ভাবতে হবে। সে ক্ষেত্রে শিফটিং ও রেশনিং করে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে অনলাইনে ক্লাস চলবে, ভার্চ্যুয়াল ক্লাসও চলবে। কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো অনলাইনে ভালো করেছে, কিন্তু আমাদের টার্গেট দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব শিক্ষার্থী। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি খুলে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য যা করা দরকার তা আমাদের করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাইডলাইনে বলা হয়েছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে মহামারি প্রতিরোধক মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বহিরাগত শিক্ষাদানকর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা নিতে হবে। যাদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া যাবে তাদের প্রবেশ নিষেধ করতে হবে।

৩১ মে এসএসসির রেজাল্ট

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩১ জানুয়ারী রোজ রবিবার সকাল ১০.০০ টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত ২১ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মারফত এ কথা জানা যায়।

উল্লেখ্য যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশের ঐতিহ্য থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর তাতে বিঘ্নতা ঘটে। অতীতের ন্যায় এবছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রে ফলাফল দেওয়া হবেনা। করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখতে জমায়েত ঠেকাতে অনলাইনেই কেবল এবছর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

SSC-2020 ফলাফল এর প্রি-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরাসরি আপনার মোবাইলে ফলাফল পেতে নাম্বার থেকে এখনি টাইপ করুনঃ
SSC<>Board Name<>Roll<>Year
আর পাঠিয়ে দিন 16222 নাম্বার এ।

এছাড়াও ওয়েবসাইটে লগিং করে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে পারেন। বোর্ডসমূহের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটসমূহঃ

  1. www.educationboardresult.gov.bd
  2. www.eboardresults.com
  3. www.barisalboard.gov.bd
  4. www.comillaboard.portal.gov.bd
    5.www.dhakaeducationboard.gov.bd
  5. www.jessoreboard.gov.bd
    7.www.mymensingheducationboard.gov.bd
    8.www.rajshahieducationboard.gov.bd
  6. www.sylhetboard.gov.bd
    10.www.dinajpureducationboard.gov.bd
  7. www.bteb.gov.bd
  8. www.bmeb.gov.bd

সরাসরি নয়, এবার সব বোর্ডের এসএসসির রেজাল্ট হবে অনলাইনে

আগের মতো পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবেনা এবছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। রেজাল্ট আনতে স্কুল/মাদ্রাসায় গিয়ে যাতে আগের মতো জমায়েত হতে না হয় এবং করোনার বিস্তার রোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক। শিক্ষা বোর্ডসমূহ তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে রেজাল্ট প্রকাশ করবে। সেখান থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা যার যার রেজাল্ট দেখে নিতে পারবে। তবে কেউ যদি মোবাইল নাম্বার দিয়ে প্রি-রেজিষ্ট্রেশন করে থাকে তবে সে মোবাইলেও ফলাফল পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

প্রি রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি হলোঃ

SSC (space)BOARD NAME (first 3 letter) (space) ROLL(space) YEAR টাইপ করে 16222 নম্বরে সেন্ড করতে হবে।

অভিভাবকের মোবাইল নম্বরে পাঠানোর প্রথম উদ্যোগ নেয় যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ লক্ষ্যে ৫ এপ্রিল জরুরি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে তারা। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ফলপ্রত্যাশীদের মোবাইল নম্বর জমা দেয়া দেয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়। করোনা ভাই’রাসের প্রভাবে নয়, বরং ফলাফল দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দিতে ও ভোগা’ন্তি কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল দেখার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটসমূহঃ

  1. www.educationboardresult.gov.bd
  2. www.eboardresults.com
  3. www.barisalboard.gov.bd
  4. www.comillaboard.portal.gov.bd
  5. www.dhakaeducationboard.gov.bd
  6. www.jessoreboard.gov.bd
  7. www.mymensingheducationboard.gov.bd
  8. www.rajshahieducationboard.gov.bd
  9. www.sylhetboard.gov.bd
  10. www.dinajpureducationboard.gov.bd
  11. www.bteb.gov.bd
  12. www.bmeb.gov.bd

ওয়েবসাইট থেকে যেভাবে পাবেন রেজাল্ট ও মার্কশীটঃঃ

সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট লগিং করে নিচের ডায়ালগ বক্সটি পাবেন। সংশ্লিষ্টঘরগুলো পুরণ করে ফলাফল পাবেন।