আবার পেছাবে স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ?

আগামী ৩০ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু ইদানিং করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় সংশয় দেখা দিয়েছে যে আদৌ ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খোলা সমীচীন হবে কিনা? সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবেও একই আশংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিশেষজ্ঞগণ সর্বশেষ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই উনাদের মতামত দিবেন এবং সে অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারিনা। এখনও পর্যন্ত ৩০ মার্চ খোলার সিদ্ধান্তই ঠিক আছে তবে পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে জনগণের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় রেখে সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ। সংগঠনটির নেতাদের মতে, স্কুল খোলার ঘোষণার পর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনার সময় এসেছে। গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সংবাদপত্রে পাঠানো তাদের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ কথা জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুল কলেজ খোলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। করোনা সংক্রমনের কারণে দীর্ঘ এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে । ফলে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার কিছুদিন আগে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে অনুযায়ী আগামী ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ একযোগে খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেয়া হয়েছে আগামী ২৪ মে থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে স্কুল কলেজ বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আনার বিষয়টি নানা মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন. এরই মধ্যে হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেছেন অভিজ্ঞ মহল। এ পরিস্থিতিতে সার্বিক পর্যালোচনা করে এ মুহূর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্কুল কলেজ খোলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে সরকার ঘোষিত আগামী ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়টি।

আগামীকাল এইচএসসির ফলাফল

আগামীকাল ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২০ এর ফলাফল। সকাল ১০ টায় ঢাকার সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে অনলাইনে ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এবার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশিত হবে। অতীতের ন্যায় এবার পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ফল পাঠানো হবে না। কাজেই কোনো অবস্থাতেই ফলাফল প্রকাশের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

যারা মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে ফলাফল পেতে ইচ্ছুক তাদেরকে ফলাফল প্রকাশের আগেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে: HSC< >Board name (First 3 letter) <> Roll<>2020 টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফল প্রকাশের সাথে সাথেই প্রি-রেজিস্ট্রেশনকৃত পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের ফলাফল পৌঁছে যাবে। এছাড়াও যারা অনলাইনে ফলাফল দেখতে চায় তারা টেলিটকের এই ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd থেকে ফলাফল দেখতে পাবেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি

করোনা মহামারির কারণে দেশের সকল  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (কওমি ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি সংশ্লিষ্ট  সকলপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ ২০২০ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর  ৩০ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ছুটি ছিল, সেই ছুটি এবার ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বাড়ানো হলো। অবশ্য ছুটি চলাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আগের মতোই চলমান থাকবে।  

মন্ত্রণালয়কে ক্ষমতা দিয়ে শিঘ্রই এইচএসসির ফল প্রকাশ

১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা অধ্যাদেশ বলে
এতদিন পর্যন্ত এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের ক্ষমতা ছিলো শিক্ষাবোর্ডগুলোর হাতে কিন্তু এবারে করোনা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হচ্ছে যা অনেকটাই ব্যতিক্রম। বিনা পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর সংক্ষুব্দ কেই আদালতের স্মরণাপন্ন হতে পারেন। এতে পুরো প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে এমন আশংকায় সরকার উদ্যেগ নেয় বোর্ড অধ্যাদেশ সংশোধন করার। আর যেহেতু এখন সংসদ অধিবেশন নেই তাই সংসদ ছাড়াই বিধান পাল্টাতে হলে অধ্যাদেশ জারির বিকল্প নেই। এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ফল প্রকাশের ক্ষমতা বোর্ডগুলোর কাছ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে যাবে।

অধ্যাদেশ জারির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এটি অনুমোদন হলে দুএকদিনের মধ্যেই গেজেট আকারে প্রকাশ হতে পারে একটি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অধ্যাদেশ জারি হবে এবং এরপরপরই ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত আইন রয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। সহসাই এটি জারি করা হবে।
অধ্যাদেশটি জারি করা হলে হয়তোবা সহসাই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হবে।

১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা

করোনা পরিস্থিতির কারনে এবার আর আগের মতো ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছেনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। যার যার সুবিধামতো নিজস্ব রুটিন অনুযায়ী হচ্ছেনা। তবে এবার ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে গুচ্ছভিত্তিক।

গতকাল শনিবার ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান সাংবাদিকদেরকে মিটিং শেষে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে তা ঠিক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এবং ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে সেটি নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তিনদিনে তিনটি পরীক্ষা। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো পরীক্ষাকেন্দ্র পছন্দ করতে পারবেন। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষা হবে বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ)। উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) বিভাগের জন্য আলাদা তিনটি পরীক্ষা হবে।

বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আগের মতো আলাদা পরীক্ষা হবে না। অর্থাৎ একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দিয়েই যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিজ বিভাগের পাশাপাশি অন্য বিভাগভুক্ত বিষয়েও ভর্তি হওয়া যাবে। সেভাবেই বিষয়ভিত্তিক আসন রাখা হবে।

অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে যারা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করবেন তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষার প্রশ্ন হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। তিনটি বিভাগের জন্য তিনটি পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে মানবিক বিভাগের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৬ থাকতে হবে। তবে যেকোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩ এর কম হলে চলবে না। বাণিজ্যে বিভাগের জন্য ওই দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ-৬ দশমিক ৫ থাকতে হবে। এখানেও কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩ এর নিচে থাকলে চলবে না। আর বিজ্ঞানে দুই পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ-৭ থাকতে হবে। এখানেও কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-তিনের নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না।

অধ্যাপক মীজান আরোও বলেন, মানবিক বিভাগের পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ব্যবসায় শিক্ষায় (বাণিজ্য) হিসাববিজ্ঞান (২৫ নম্বর), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (২৫ নম্বর), ভাষা ( ২৫ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১৩ ও ইংরেজিতে ১২ নম্বর) এবং আইসিটি (২৫ নম্বর) বিষয়ে পরীক্ষা হবে। আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভাষা ( ২০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০ ও ইংরেজিতে ১০ নম্বর), রসায়ন (২০ নম্বর), পদার্থ (২০ নম্বর) এবং আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞানের মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। যার প্রতিটির নম্বর হবে ২০ করে।

এ বছর যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রাইমারিতে আরেক ক্লাশ বাড়ছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরেকটি শ্রেণি বাড়ছে। কিন্ডারগার্টেনের মতো ‘প্লে গ্রুপ’-এর আদলে নতুন এ শ্রেণির নাম হবে ‘শিশু শ্রেণি’। ‘নার্সারি’ পড়ে প্রথম শ্রেণিতে উঠবে শিশুরা। ফলে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হবে দুই বছরের। আগামী বছর সারাদেশের দুই হাজার ৫৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমে সফলতা এলে ২০২৩ সাল থেকে সব বিদ্যালয়েই শিশু শ্রেণি চালু করা হবে। এতে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক ও একজন করে আয়া নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন গত বৃহস্পতিবার সমকালকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় করতে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজন ছিল। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও সে কথা বলা আছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। প্রাক-প্রাথমিকের দুটি শ্রেণির জন্যই কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকেই পাইলটিং হিসেবে কিছু স্কুলে শিশু শ্রেণি চালু হবে।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির আগে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু আছে। তবে আগামী বছর থেকে যেসব বিদ্যালয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হবে, সেখানে শিশুদের চার বছর বয়সে ভর্তি হতে হবে। তবে প্রাক-প্রাথমিকের মেয়াদ বাড়াতে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন করা সারসংক্ষেপে যার উল্লেখ রয়েছে। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করতে হবে যা চার বছর বয়সী শিশুদের উপযোগী হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু না থাকায় শহর ও গ্রামে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রসার ঘটছে। এতে অসম প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য দেখা দিচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার ব্যয়ও বাড়ছে। প্রাথমিক স্তরে ২০১০ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালুর পর প্রথম শ্রেণিতে নিট ভর্তি, শিক্ষাচক্র সমাপনী, উপস্থিতি ও সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। অন্যদিকে অনুপস্থিতি এবং পুনরাবৃত্তির হার কমেছে। সারসংক্ষেপে আর্থিক সংস্থানের ব্যাপারে বলা হয়, ইতোমধ্যে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন থেকে ৫৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে যা এ ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৯৯টিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ৩৭ হাজার ৬৭২টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের একজন করে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। ২৬ হাজার ৩৬৬ বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে যা শিগগিরই নিয়োগ করা হবে। ইউনেস্কোর তথ্যানুযায়ী, উন্নত দেশসহ ৫২ শতাংশ দেশের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা তিন বছর মেয়াদি এবং ৩৩ শতাংশ দেশে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃঃ দৈনিক সমকাল

পদত্যাগের একদিনের মাথায় আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যু

বাংলাদেশের বৃহত্তম কওমি মাদ্রাসা হাটহাজারী মাদ্রাসার মোহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১০৪ বছর। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার ভাগনে তাউহীদ ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পৃথক শোক বার্তায় তারা সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

উল্লেখ্য যে গত কয়দিন যাবৎ হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্ররা আন্দোলন করছিলো। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে গতকাল তিনি মুহতামিমের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

মাওলানা আহমদ শফির পদত্যাগ, অসুস্থ হয়ে আইসিইউ’তে ভর্তি

ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে এবার হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসে মাদ্রাসার মজলিশে শূরা কমিটি। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে পদত্যাগ করেন শাহ আহমদ শফী।
মজলিশে শূরা সদস্য আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি তার দায়িত্ব (মহাপরিচালক) শূরার ওপর অর্পণ করেছেন। শূরা সদস্যরা পরবর্তীকালে মহাপরিচালকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বৈঠকে আরও দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। হুজুর জীবিত থাকা অবস্থায় সবসময় দারুল উলুমের উপদেষ্টা হিসাবে থাকবেন। মাদ্রাসার শিক্ষক আল্লামা নুরুল ইসলাম জাদিদকে আজীবনে জন্য মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদ থেকে পদত্যাগ করার পর পরই অসুস্থতাবোধ করায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান,আহমদ শফি হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানীকে হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, আর কোনও ছাত্রকে হয়রানি করা হবে না।
সভায় শূরা সদস্যদের মধ্যে মেখল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়েজী, নানুপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী ও মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আহমেদ দিদার, মাওলানা ফোরকান আহমেদ, মাওলানা বশির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন ও দৈনিক শিক্ষা

অবশেষে মাওলানা আহমদ শফির হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা

অবশেষে মাওলানা আহমদ শফির চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আরোপিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় মাদরাসাটি বন্ধ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদেশে জারি করেছে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হয়। তিনি জানান, আরোপিত শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল তাহলিমা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসা পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ আগস্ট কিছু শর্ত দিয়ে কওমি মাদরাসাগুলোর কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সেসব শর্ত ভঙ্গ করায় মাদরাসাটি বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে মাদরাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছে হাজারও শিক্ষার্থী। দাবি পূরণ না হওয়ায় আজও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম শফীকে মা’যুর (অক্ষম) উল্লেখ করে কর্মক্ষম নতুন মুহতামিম নিয়োগসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। হাটহাজারী মাদরাসা, হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদরাসা বোর্ডের (বেফাক) ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে,শফী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে মাদরাসার প্রশাসনিক তদারকিতে অক্ষম হয়ে পড়ছেন। একাধিকবার তাকে দেশে বিদেশে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিজের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় শফী দাফতরিক কাজে ছোট ছেলে আনাস মাদানীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই সুযোগে আনাস মাদানী হেফাজতে ইসলাম ও হাটহাজারী মাদরাসায় নিজের বলয় বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেন।

জানা গেছে, শফীর প্রেস সচিব মুনির আহমদকে কোনো নোটিশ ছাড়াই দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর থেকেই আনাস মাদানীর প্রভাব,মাদরাসার ভেতরে প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

আনাস মাদানীর প্রভাবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কমপক্ষে ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বিনা কারণে মৌখিক নির্দেশে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা, ২৫ আসামীর বিচার শুরু

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই আদেশ দেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলার থেকে ১ অক্টোবর টানা সাক্ষ্যগ্রহণের শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের আগে মামলার ২৫ আসামির মধ্যে ২২ জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালত আসামিদের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা দোষী না নির্দোষ?’ তখন আসামিরা নিজেদের নিরপরাধ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।

গত বছর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটে শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গত ২১ জানুয়ারি আমলে নেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। মামলার ২৫ আসামির মধ্যে কারাগারে আছেন ২২ জন, পলাতক আছেন তিন আসামি। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে :
আবরার থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ১০১১ নম্বর কক্ষে। এটি হলের নিচতলায় অবস্থিত। একই কক্ষে থাকতেন ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের নাম মামলার এজাহারে ছিল না। তদন্তে জানা যায়, আবরার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও সূচনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মিজানুর রহমান। গত ৪ অক্টোবরের আগে যে কোনো সময় মিজানুর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে বলেন, ‘আবরারকে তার শিবির বলে সন্দেহ হয়।’

মিজানুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এই বিষয়টি শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নিজস্ব ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানান। ৪ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ক্যানটিনে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এবং ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্নার নেতৃত্বে অমিত সাহা, ইফতি মোশাররফ সকাল, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির, মিফতাহুল ইসলাম জীয়নসহ অন্য আসামিরা মিটিং করেন। এ সময় আবরার তাঁর কক্ষে আছেন কিনা তা জানতে একাধিক সহযোগীকে পাঠিয়ে খোঁজ নেন। কিন্তু আবরার সেদিন তার কক্ষে ছিলেন না। ছিলেন কুষ্টিয়ায়, নিজ বাড়িতে।

পরদিন ৫ অক্টোবর মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে আসামি হোসেন মোহাম্মাদ তোহা, আকাশ হোসেন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা সহ সকলেই গেস্টরুমে একত্রিত হয়ে মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হয়।

গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তাঁর সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানান, ‘তিনি বাড়ি যাবেন। আবরারকে ধরলে আজই ধরতে হবে।’ তাঁদের মধ্যে যখন এই কথোপকথন চলছিল, এর কিছুক্ষণ পর হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ সকলকে জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে এসেছে।

এই খবর পাওয়ার পর সকলেই ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হন। রাত আটটার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি, এ এস এম নাজমুস সাদাত আবুজার মিলে আবরারের কক্ষে যান। আবরার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তানিম ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন আবরারকে। তিনি আবরারকে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে।’

কখন যেতে হবে, কেন যেতে হবে, জানতে চান আবরার। তানিম জানিয়ে দেন, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’

তখন আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান তারা। ওই কক্ষে যাওয়ার পর তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ চেক করতে থাকেন আবরারের মোবাইল-ল্যাপটপ। একজন বলেন, আবরারের মোবাইলের শিবিরের তথ্য পাওয়া গেছে, তখনই মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হন। আবরারকে তাঁর চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। আবরার চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন প্রচন্ড জোরে তাঁর মুখে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এরইমধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। এরপর ইফতি মোশাররফ প্রথমে জোরে থাপ্পড় মারেন আবরারকে। হাতে তুলে নেন ক্রিকেট স্ট্যাম্প।

এরপর আবরারের পিঠে, পায়ে, হাতেসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকেন। প্রচণ্ড মারধরের কারণে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। তখন এহতেসামুল রাব্বি ও তানিম আরও একটি ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে আসেন। এরপর অনিক সরকার একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেন। অনিক একাধারে আবরারের সারা শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা স্কিপিং রোপ (মোটা দড়ি) দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। আবরার ফাহাদ তখন বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাতেও তাঁর রক্ষা হয়নি। বরং মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। বারবার জানতে চান, আবরার শিবির করে কি না?

আবার ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার আববারকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের কনুই দিয়ে আবরারের পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেন। তখন সবাই মিলে প্রচণ্ড শক্তিতে আবরারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি চড়-থাপ্পড় লাথি মারতে থাকেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাত তখন এগারোটা। তখন ওই কক্ষে এসে হাজির হন এস এম মাহমুদ ওরফে সেতু। আবরারের ব্যাপারে উপস্থিত অন্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে চান। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’ তখন মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের বলে যান, ‘মারতে থাক।’ এমন নির্দেশনার পর আবরারকে আবার ক্রিকেট স্ট্যাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে মারা হয়। এভাবে অভিযোগপত্রে ধারাবাহিক তুলে ধরা হয় আবরার হত্যার বিস্তারিত।