বিদায় বন্ধু ম্যারাডোনা!

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম ডেক্সঃ একজন খেলোয়াড়ের জীবন কতাটা বর্ণাঢ্য হলে অবসরের পরেও তিনি থাকেন পাদ প্রদীপের আলোয়! যেখানেই যান সংবাদমাধ্যম ও ভক্তকুল হালের বিশ্বসেরা মেসি, নেইমার, রোনালদোদের মাঠের ক্যারিসমা উপেক্ষা করে তার প্রতিটি মুভ দেখতেই উতলা হয়ে থাকেন।

যাপিত জীবনে আর্জেন্টাইন যাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন এমনই এক মানুষ, এমনই এক খেলোয়াড়। ফুটবল দুনিয়ার অপার বিস্ময়ের নাম ম্যারাডোনা, এক উন্মাতাল অনুভুতির নাম ম্যারাডোনা।

সেই ম্যারাডোনা আজ পরপারের বাসিন্দা। নভেম্বর তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের পর অতিমাত্রায় মদ্যপ নির্ভরতা কমাতে চিকিৎসা করে আসছিলেন চিকিৎসকেরা। পাছে উদ্দেশ্য একটাই। কিংবদন্তিকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। কিন্তু তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত ২৭ তারিখ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ৬০ বছর বয়সে আর্জন্টিনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’।

ফুটবল জাদুকরের প্রয়াণে স্তব্ধ বিশ্ববাসী। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে সেই শোক আছড়ে পড়েছে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশেও। তাইতো কিংবদন্তির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে অতল শ্রদ্ধা জানাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি।

এই কৃতিমান ফুটবলারের মৃত্যুতে আমরা ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবার শোকাহত।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় মেসির ৫০ হাজারেরও বেশী শিক্ষা সামগ্রী উপহার

ছাত্র-ছাত্রী ডট কম রিপোর্টঃ ইউনিসেফের সাথে যৌথ উদ্যোগে সিরিয়ার নয়টি প্রদেশের বাচ্চাদের জন্য ৫০ হাজার ৬৩০টি শিক্ষা সামগ্রী উপহার দিয়েছে লিওনেল মেসি ফাউন্ডেশন। সারাবিশ্বে ভাগ্যহত শিশুদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন গঠন করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি।

বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মেসির অর্থায়নে পরিচালিত তার ফাউন্ডেশনের এই মহতী উদ্যোগের খবরটি জানিয়েছে স্প্যানিশ ক্রীড়া মাধ্যম মার্কা।

আনন্দের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এসব শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয় সিরিয়ান শিশুদের। একইসাথে এর মাধ্যমে বাচ্চারা যাতে সামাজিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারে সেটাও লক্ষ্য রাখা হয়েছে। স্কুল যাতে একটি বাচ্চার জন্য বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠতে পারে এবং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শিক্ষাটাও তারা পেতে পারে।

শিক্ষা উপকরণগুলো সিরিয়ার যে ৯টি প্রদেশে বিতরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- হাসাকা, কুনেইট্রা, আলেপ্পো, হামা, হোমস, ডারা, ডায়ার এজ-জো, সুয়েডা ও দামাস্কাস।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মেসি বিভিন্ন ধরণের সহায়তা ফান্ড পরিচালনা করে আসছেন।

মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হক সুমি করোনা আক্রান্ত

জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গত ২০ জুন। এর দিন দুয়েক পর করোনা পজিটিভ হন মাশরাফির ছোট ভাই মোরসালিন বিন মোর্ত্তজাও। এবার করোনায় আক্রান্ত হলেন মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হক সুমিও।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে মাশরাফির পারিবারিক সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকার বাসায় থেকে মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হক সুমি চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুমির শারীরিক অবস্থা ভাল।

জানা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন মাশরাফি, মাশরাফির ছোট ভাই সিজার এবং স্ত্রী সুমনা হক সুমি।

উল্লেখ্য, ম্যাশের চিকিৎসার দেখভাল করছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ। মাশরাফির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সব সময় তাঁর খোঁজ নিচ্ছেন। তিনিই মাশরাফিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে প্রেসক্রিপশনের ব্যবস্থা করেন।

সূত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর

করোনাক্রান্ত হয়ে কিভাবে দিন কাটছে মাশরাফির?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাংসদ মাশরাফি বিন মুর্তজার ক’রোনা পজিটিভ হওয়ার খবর প্রকাশের পরই দেশের ক্রিকেট ভক্ত থেকে আপামর জনগণ সবারই জানার আগ্রহ কেমন আছেন প্রিয় মাশরাফি, কিভাবে কাটছে তার সময়। আর ভক্তদের সেই উ’দ্বেগ কিছুটা কমাতে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক জানার চেষ্টা করেছে মাশরাফির বর্তমান অবস্থা, এবং কিভাবে তার সময় কাটছে।
ক্রিকেট নিয়ে ছোটাছুটি, ফিটনেস নিয়ে তৎপরতা এবং এলাকার মানুষের জন্য প্রাণান্ত করা; আপাতত কাজগুলো থেকে নিজেকে সশরীরে একটু সরিয়ে নিতে হয়েছে। কারণ, সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে ফেলা ক’রোনা ভাই’রাস আক্র’মণ করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও।

অবশ্য শরীরের ওপর কোনো আক্র’মণে কাবু হওয়ার মানুষ তো মাশরাফি নন। দুই পায়ে সাতটাসহ শরীরে মোট ১১টা অপারেশন দগদগ করছে। তাই নিয়ে এখনো সমানে মাঠ মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে করোনার আক্র’মণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। শুধু নিয়ম অনুযায়ী নিজেকে ঘরে আট’কে রেখেছেন এবং চিকিত্সকদের পরামর্শ শুনছেন। এছাড়া ফোনে, ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে সব কাজ চলছে তার গতিতে।
একটু ঘুম কম হচ্ছে। সেটাতেও মনে হলো বেশ খুশি। কারণ, ইউরোপে করোনাকে পাশে ঠেলে লা লিগা আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা শুরু হয়েছে। নানান চাপে গত কিছুকাল আর সব ম্যাচ দেখা হচ্ছিল না। এখন আর কোনো বাছবিচার নেই। টিভিতে খেলা দেখালেই রাত জেগে ইউরোপিয়ান ফুটবল দেখছেন।

ভোর রাতে ফজরের নামাজ পড়ে দিন শুরু হয়। এরপর ছোট্ট একটু নিদ্রা। তারপর উঠে নাস্তার পর স্ত্রীর কঠোর শাসনে নানারকম ভেষজ খাবার—মালটা, আপেল, কমলা; ভিটামিস ‘সি’ গ্রহণের চেষ্টা। খাবার নিয়ে কখনোই খুব ভাবনা করার মানুষ নন। কিন্তু ইদানিং স্ত্রী আর বন্ধুদের চাপে একটু পুষ্টিকর খাবার জোর করেই গলা থেকে ঢোকাতে হচ্ছে। সঙ্গে গরম পানির গার্গল আর বারবার আদা দেওয়া চা খেতে হচ্ছে। বোঝা গেল, এটা বিরক্তিকর হচ্ছে।


এজমার সমস্যা আছে অনেক আগে থেকেই। তাই ডাক্তাররা জোর করে পাঠিয়েছিলেন কিছু পরীক্ষা করাতে। বিশেষ করে বুকের এক্স-রে নিয়ে ডাক্তাররা ভাবিত ছিলেন। সুখবর দেওয়া যাক—বুকের এক্স-রে খুব ভালো এসেছে। চিন্তার কোনো কারণ পাননি চিকিত্সকরা।

মাশরাফি অবশ্য পরিষ্কার যে, যাই ঘটুক, এই করোনা নিয়ে ভাববেন না। গল্প করতে গিয়েও করোনা প্রসঙ্গ তাই এড়িয়েই থাকেন। বললেন যে, টিভিতেও এই প্রসঙ্গ এলে চ্যানেল বদলে ফেলেন। নিজেকে এই ভাইরাসের চিন্তায় মশগুল হতে দিতে চান না।

তার অবশ্য সময় কাটানো খুব সমস্যা হচ্ছে না। হুমায়রা ও সাহেল; দুই সন্তানকে শুরুতেই নড়াইলের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে তাদের পরীক্ষাও করানো হয়েছে। ফল নেগেটিভ এসেছে। এটা বেশ স্বস্তি দিয়েছে। মাশরাফির সঙ্গী হিসেবে সার্বক্ষনিক পাশে আছেন স্ত্রী সুমনা হক সুমী। খাওয়া, ওষুধ থেকে শুরু করে সবকিছুই তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। করোনা তাকে পাশ থেকে সরাতে পারেনি।

সরাতে পারেনি বন্ধু প্রীতম বা বাবলুকেও। তারাও আছেন বাসায়। সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছেন মাশরাফিকে। নড়াইলে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তা থেমে নেই। আছে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সেখানে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। যোগাযোগ চলছে নড়াইলের ডিসি, এসপির মতো কর্মকর্তাদের সাথেও। আর কোনো কিছু দরকার হলে ব্যক্তিগত সহকারী সানিকে জানাচ্ছেন। তিনি সমাধান করছেন সবকিছু।

দেশবাসীর কামনা করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে প্রিয় ক্রিকেটার আবার ফিরে আসুক ভক্তদের মাঝে। ছাত্র-ছাত্রী ডট কম পরিবারের পক্ষ থেকে শুভ কামনা রইলো প্রিয় ক্রিকেটারের জন্য।

আগামী দুই বিশ্বকাপ খেলতে পারবেনা পাকিস্তান!

ডেক্স রিপোর্টঃ ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হচ্ছে ক্রিকেটারদেরকেও।
চিরবৈরি এই দুই দেশ খেলার মাঠে যেমন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, রাজনৈতিক অঙ্গনেও বরাবরই মুখোমুখি দুই প্রতিবেশী দেশ। খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা সবাই উপভোগ করলেও, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাবটা ভয়াবহ। সেই দ্বন্দ্বের জের এমনই যে, আগামী দুটি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে!

শিডিউল অনুযায়ী ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত। আর এই দুই বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নিতে পারবে কিনা সেই শঙ্কা জেগেছে খোদ পাকিস্তানীদের মনেই।
অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে খোদ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডও। আর তাইতো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআইয়ের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করেছেন পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান। এর আগেও পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের ভ্রমণের ছাড়পত্র দেয়নি ভারত। দাবি শীর্ষ এই বোর্ড কর্তার। এবার তাই বিসিসিআইয়ের লিখিত নিশ্চয়তার পাশাপাশি আইসিসি’র পক্ষ থেকেও নিশ্চয়তা চায় পাকিস্তান।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দাবী এর আগেও নাকি ভারতে সফর করতে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের। এমন দাবি তুলে ভারতীয় বোর্ডের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতায় গেল ৮ বছর ধরে বন্ধ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ভারতীয়রা পাকিস্তানে সফর করেনা, আবার পাকিস্তানও যায় না ভারতে। কেবল আইসিসি ইভেন্টগুলোতেই দেখা মিলতো দুই দেশের ক্রিকেটারদের। ভারত সফরে যদি পাক ক্রিকেটারদেরকে অনুমতি না দেওয়া হয় তাহলে আগামী দুটো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না পাকিস্তান!

করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে কীট দেবেন সাকিব আল হাসান

জনপ্রিয় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান নানাভাবেই মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ‘সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে এরই মধ্যে ২ হাজার দুস্থ পরিবারকে সাহায্য করছেন তিনি।

এবার কনফিডেন্স গ্রুপের সঙ্গে সাকিবের ফাউন্ডেশন যৌথভাবে করোনা শনাক্তকরণ কিট দিতে যাচ্ছেন।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, “আমি খুবই গর্বের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি যে কনফিডেন্স গ্রুপ “সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন”–এর সঙ্গে মিলে সর্বমোট ২০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠনে সহায়তা করেছে। এই তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বেশ কিছু স্বনামধন্য হাসপাতাল ও মেডিকেল ইনস্টিটিউটকে করোনা শনাক্তকরণ কিটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।”