চট্টগ্রাম-০৮, বিজয়ের আনন্দ বিএনপি সমর্থকদের

ওসমান গনি: ১০ দলীয় জোটের খসড়া তালিকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ এর নাম দেখে উল্লসিত বিএনপি পাড়া। চান্দগাও ও বোয়ালখালী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে জুবাইরকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সমর্থকরা খুবই খুশী। তাদের বক্তব্য ডা: নাসের তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো। কিন্তু জুবাইর জোটের প্রার্থী হলে ধানের শীষের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত। তাই এরশাদ উল্লাহর সমর্থকরা এখন ফুরফুরে মেজাজে আছে। অন্যদিকে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা। দীর্ঘদিন কাজ করে দাড়িপাল্লার পক্ষে যথেষ্ট জনমত তৈরি হয়েছে এবং বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে জোটবদ্ধ নির্বাচনের নামে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছেনা নেতাকর্মীরা। ডা: আবু নাসের শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় সেই ছাত্রজীবন থেকেই বোয়ালখালী-চান্দগাও এলাকার মানুষের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ নিবিড়ভাবে মিশে আসছেন।বিভিন্ন সামাজিকতায় সর্বদা এলাকার মানুষের পাশে থাকেন। নিজে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দরিদ্র মানুষদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।

তবে চট্টগ্রাম-৮ আসনের দাড়িপাল্লার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী পরিচালক, চান্দগাও থানা জামায়াতের আমির ইসমাইল হোসেন বলেন, এটা একটা খসড়া তালিকা মাত্র চুড়ান্ত তালিকা নয়, বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। এ এলাকায় দাড়িপাল্লার পক্ষে ব্যপক জনমতের বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে অবহিত করেছি। আশা করি কেন্দ্রীয় সংগঠন একটা ভাল সমাধান দিবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহরা এলাকার এক বিএনপি কর্মী বলেন, এনসিপির জুবাইরকে প্রার্থী দিলে খুবই ভাল হবে। ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত। ১২ ফেব্রুয়ারী জয়ের মালা এরশাদ উল্লাহ ভাই পড়বেন।

বোয়ালখালী এলাকার ভোটার জয়নাল আবেদীন বলেন, ডা: নাসের বোয়ালখালী এলাকার সন্তান অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর বাড়ি চান্দগাও। দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ সমস্যায় জর্জরিত বোয়ালখালীবাসী তাদের নিজেদের এলাকার প্রার্থী ডা: নাসেরকে বিজয়ী করার জন্য দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ। চট্টগ্রাম-৮আসনে ডা: নাসেরের বিজয় এবার সুনিশ্চিত। অন্যদিকে এনসিপির জুবায়ের এই এলাকার ভোটার না, তার বাড়ি সাতকানিয়া। জুলাই আন্দোলনের কিছু তরুণ ছাড়া এই এলাকার সাধারণ লোক তাকে চিনেনা বললেই চলে। জুবায়েরকে প্রার্থী দেওয়া মানে বিএনপি প্রার্থীকে ওয়াকওভার দিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা।

এবাদুল হক আবেদ নামে এক ভোটার তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “আমার মনে হয় চট্টগ্রামের এটাই একমাত্র আসন যেখানে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণ হওয়ার আগেই জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা শুভানুধ্যায়ীরা নিরলস প্রচার প্রসার গণসংযোগের মাধ্যমে আসনটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নিয়ে এসেছেন।

এই পরিস্থিতিতে অনায়াসে জিতে যাওয়ার আশায় বসে থাকা বিএনপির প্রার্থীকেও নড়চড়ে বসতে হয়েছে। ঝুঁকি তৈরি হওয়ার কারনে সব ধরনের গ্রুপিং বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা । এরপরও এখনও বিএনপির বড় একটা গ্রুপ জামায়াতের সাথেই সম্পর্ক রেখে চলেছে।

জামায়াত আমীর Dr. Shafiqur Rahman ‘র উচিত হবে এ ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা ।

এনসিপি প্রার্থী এখানে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তাছাড়াও উনার বাড়িও এই এলাকায় না, এই প্রার্থীর পুরা নামটা আমি নিজেও জানি না এখনো। তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল কি সেটাও সকলেরই অজানা ।

এই আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণে এই আসনের পেছনে শ্রমের পাশাপাশি ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠিত সাবেক দায়িত্বশীল, সদস্য, সাথী এবং কর্মীদের বড় ধরনের আর্থিক কুরবানিও গেছে।

এখন কুলে এসে তাদেরকে যদি বলা হয় তরী ভিড়বে না ঘাটে। এটা ডিজেস্টারাস হবে সবার জন্য।

বিএনপি প্রার্থী এখন বাড়তি কোন টাকা খরচ না করে এনসিপির প্রার্থীর পেছনে খরচ করলেই উনার রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ব্যাক ডোরে অলরেডি শুরু করে দিয়েছে বলেও শুনা যাচ্ছে । শুনলাম এনসিপির প্রার্থী নিজেও মুলত এই সুবিধার জন্যই প্রার্থী হওয়ার জন্য তোড়জোড় করছেন দীর্ঘদিন ধরে, জয়ের জন্য নয় । Nahid Islam ভাই কাজটা কিন্ত ভাল হচ্ছে না ।

জামায়াত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা মানেই বিএনপিকে বিনা চ্যালেঞ্জে ওয়াক ওভার দিয়ে দেওয়া ।”

বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিক নামে এক ভোটার লিখেছেন, “চট্টগ্রাম–৮ আসনে এনসিপির কোনো শক্তিশালী ও সংগঠিত কাঠামো নেই—এটি বাস্তব সত্য। এনসিপির যে প্রার্থীর নাম আলোচনায় আনা হচ্ছে, তার পরিচয় এলাকাবাসীর কাছে প্রায় অজানা। স্থানীয় পর্যায়ে তার কোনো দৃশ্যমান সংযোগ, রাজনৈতিক উপস্থিতি কিংবা জনসম্পৃক্ততার প্রমাণ আমরা দেখতে পাইনি। এই অবস্থায় কীসের ভিত্তিতে তাকে এই আসন দিতে হচ্ছে , এটি সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ এবং অনেকটাই হাস্যকর মনে হয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই প্রার্থীর নামে এখন পর্যন্ত কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি, নেই কোনো গণসংযোগ, নেই উঠান বৈঠক কিংবা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো উদ্যোগ। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ন্যূনতম প্রস্তুতি বা সক্রিয়তার কোনো নমুনাই যদি না থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসে—তার পক্ষে ভোট দিতে মানুষ কোথা থেকে আসবে?
এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম–৮ আসন যদি এনসিপিকে দেওয়ার চিন্তা করা হয়, তবে সেটি অন্তত ওপেন রাখা উচিত।”

মতামত দিন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * দিয়ে চিহ্নিত।