কোন পাঁচ শ্রেণির লোক সবচেয়ে বেশী করোনা ঝুঁকিতে?

ডেক্স আর্টিকেলঃ জনসন হপকিংস ইউনিভার্সিটির সংগৃহিত তথ্যমতে আজকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০৯। মারা গেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭০৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ৪৫৩জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫১ হাজারের বেশি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তথ্যমতে আজকে বিকাল পর্যন্ত করোনায় বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮ শত ৩৮ জন। সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৫৮ জন । মারা গেছে ৭৫ জন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের “সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)” এ পর্যন্ত বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। তাদের প্রাপ্ত গবেষণা ফলাফলে পাঁচটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে বিষয়গুলো মানুষকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ওই গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিরর একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। এই পাঁচটি কারণ হলো-

১. বয়সঃ গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ বছরের বেশি বয়স্কদের করোনাভাইয়াসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার বেশি।বয়স্কদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় হার্ট, ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতির হাত থেকে তারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে রক্ষা করতে পারছে না। চীনের উহানে গবেষকরা সেখানকার দুটি হাসপাতালের করোনাভাইরাস আক্রান্ত ১৯১ জনের মধ্যে অধ্যায়ন করে বয়সভেদে মৃত্যুর একটি সম্পর্ক দেখেছেন। ওহানে দেখা গেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করা অধিকাংশই বয়স্ক।

২. লিঙ্গঃ সিডিসির গবেষণা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষের মৃত্যু হচ্ছে বেশি। যদিও এর কারণ এখনো জানতে পারেননি গবেষকরা। ইতালিতে আক্রান্তদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ হলেও মৃতদের মধ্যে পুরুষের শতাংশ ৬৮। গ্রিসে জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ পুরুষ হলেও করোনায় মৃতদের ৭২ শতাংশ পুরুষ।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীরা বেশিরভাগ সময় পুরুষের চেয়ে ঘরে সময় পার করেন। এমনকি করোনাভাইরাসের বিষয়টিও নারীরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। কিন্তু পুরুষরা সেভাবে বিবেচনা না করে এখনো বাইরে বের হচ্ছেন। তাছাড়া পারিবারিক প্রয়োজনেই মহিলাদের তুলনায় পুরুষকে বাইরে যেতে হয় বেশি। ফলে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর হারের দিক থেকেও পুরুষের সংখ্যাটা বেশি হচ্ছে।

৩. আগে থেকে রোগাক্রান্তঃ যেসব মানুষ আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে আছেন; বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসে সমস্যা, হজমের সমস্যায় ভুগছেন- তাদের মৃত্যু হার বেশি। নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে, উহান শহরে প্রথম এক হাজার জন আক্রান্ত হওয়ার পর যারা মারা গেছেন- তাদের বেশিরভাগেরই ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হার্টে সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এসব জটিল রোগের সাথে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে তারা সহজেই দূর্বল হয়ে গেছেন।

৪. ওজনঃ শারীরিকভাবে বেশি ওজনের মানুষদের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে। ফ্রান্সের গবেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এত বেশি মানুষ মারা যাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাড়তি ওজন। মোটা মানুষজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার কথাও বলেছেন গবেষকরা।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাঃ করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। সে ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কেবল আক্রান্ত কোনো মানুষকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে টেনে নিয়ে আসতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, করোনা আক্রান্ত হলে তাদের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে গুরুতরভাবে। এ ধরনের মানুষকে লাইফ সাপোর্টে পর্যন্ত নিতে হচ্ছে। পরে বেশি সংখ্যক এ ধরনের মানুষ মারা যাচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ মিরর ও সময়ের কন্ঠস্বর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *