সিলেটের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুরের সন্তান ডা. মঈন এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি গরিব রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দিতেন। দুস্থ-অসহায় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আপনজন। দূরদূরান্তে রোগীদের বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে এবং নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেয়ার কারণে তাকে গরিবের মঈনুদ্দিন ডাক্তার বলা হতো। সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ডা. মঈনের ব্যক্তিগত চেম্বারেও গরিব রোগীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়।
গরীবের ডাক্তারখ্যাত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি আজ ভোর সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “আজ সকালে ডা. মঈন উদ্দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।” গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। উনার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। উনারা ডাঃ মইনকে করোনা যুদ্ধের প্রথম শহীদ আখ্যায়িত করেন।
ডাঃ মইন উদ্দিনের মৃত্যুতে সোস্যাল মিডিয়ায়ও নেমে এসেছে শোকের ঝড়।
আলী নুর নামে এক সরকারি কর্মকর্তা লিখেছেন, “বীরের মৃত্যু হয় না। তাঁকে শ্রদ্ধা আর সালাম জানাই। করোনা রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে প্রথম ডাক্তার হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন।”
চিটাগং ইউনিভার্সিটির সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. তানভির হায়দার আরিফ লিখেছেন, “এমন অনেককে দেখছি অনলাইনে যাদের পিপিই থাকার কথা না, ওনারা পিপিই কে চাঁদের দেশে যাওয়ার পোষাক মনে করেছেন আর অন্যদিকে একের পর এক করোনা যোদ্ধারা আক্রান্ত হচ্ছেন, পরকালের পথে যাত্রা করছেন।”
ড. কামাল উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন,
“ডাক্তার মঈনের মৃত্যুতে আমরা সত্যিই অশ্রু ভারাক্রান্ত। এটি স্পষ্ট যে ডাক্তার মঈনের চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ডাক্তার মঈনের আকুতি কারো বিবেককে নাড়া দেয়নি।”
এফ এম সুমন নামে এক সাংবাদিক তার ওয়ালে লিখেছেন, “ওপারে ভালো থাকুন মউন ভাই। মাফ করে দিবেন আমাদের । আপনার ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা আমাদের নাই। আমরা কৃতজ্ঞ । নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করবেন।”
তাজুল ইসলাম নামে একজন লিখেছে, “করোনায় শহীদ হওয়া মানবদরদী ডাক্তার মঈনের জন্য হৃদয় শোকাভিভূত।”
ওবায়দুল হক নামে একজন লিখেছেন, “খুবই ভদ্র, অমায়িক পরোপকারী মানুষ ছিলেন তিনি।”
